দেশকে ভূমিকম্পসহনীয় করতে ৫০ বছরের পরিকল্পনা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৭

দেশকে ভূমিকম্পসহনীয় করতে ৫০ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। জাপানের সহায়তায় তিন ধাপে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করে। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্ভাব্য ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই জাপানের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর বাংলাদেশকে ভূমিকম্পসহনীয় করতে তারা তিন ধাপে ৫০ বছরের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। এজন্য জাপান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। কাজটি শুরু করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম ভূমিকম্পসহনীয় নিরাপদ রাষ্ট্র পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে পুরান ঢাকার মতো দেশের যেসব জায়গায় অবকাঠামো আছে, সেগুলোকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং সেখানে নতুন ডিজাইন করে ভূমিকম্পসহনীয় ভবন নির্মাণ করে উপকারভোগীদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে বহুতল ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলো ভূমিকম্পসহনীয় না হলে রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে এগুলো স্ট্রেনদেনিং করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে জাপান সরকার ইঞ্জিনিয়ার এবং আর্কিটেকদের প্রশিক্ষণ দেবে, যাতে ১০ রিখটার স্কেলকে ল্যান্ডমার্ক ধরে নতুন যে ভবন হবে সেগুলো ডিজাইন করা হবে। তিন ধাপের এই কাজের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে জাইকার সব সদস্য দেশে চলে গেছে। তারা এলে প্রথমে সমীক্ষা এবং পরে কাজ শুরু হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ মারা যায়। এজন্য আমরা বজ্রপাতের পূর্বাভাস কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছি। সংকেত দেওয়ার পর মানুষ যেন নিরাপদ আশ্রয় যেতে পারে সেজন্য হাওরসহ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে ১ তলাবিশিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করব। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্যোগ মনিটরিং করার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ে ৩ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে চীনের সহায়তায় ভবন তৈরি করা হচ্ছে।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য ৪২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণও শেষ হয়েছে। দুর্যোগকালে ঢাকা থেকে ত্রাণসামগ্রী বহন করতে ৬৪ জেলায় ৬৬টি ত্রাণ গুদাম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শেষে এ কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।