নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ধর্ষকদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগে। এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সাধারণ শিক্ষার্থী, বাম ধারার ছাত্র সংগঠনের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল দিনব্যাপী জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ করেন তারা। এদিকে মানববন্ধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মানববন্ধনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিযামুল হক ভুঁইয়া বলেন, ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি শিক্ষা কারিকুলামে নৈতিকতা শিক্ষা দিতে হবে। নৈতিক দায়িত্ব গঠনে শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. লুত্ফুর রহমান বলেন, ধর্ষকরা সংখ্যায় কম হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির মাধ্যমে এসব করে বেড়ায়। মানববন্ধনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার পেছনে ধর্ষকের রাজনৈতিক গডফাদারকে বিচারের আওতায় না আনা অন্যতম কারণ। একজন নারীর নিরাপত্তার জন্য শুধু সমাজকে সচেতন করলে হবে না। রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক লুত্ফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জিনাত হুদা, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক পারভেজ সাজ্জাদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ড. রোবায়েত ফেরদৌস প্রমুখ।
এদিকে শাহবাগের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ বলেন, ‘নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশে অব্যাহত যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে হচ্ছে। ধর্ষকদের পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ করতে হবে।’ প্রতিবাদী অবস্থানে বিক্ষোভ ও স্লোগানের পাশাপাশি চলছে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন কর্মসূচি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ছয় শিক্ষার্থী।
