ব্যক্তিসত্তাকে সর্বজনীন করে নোবেল পেলেন মার্কিন কবি লুইস গ্লুক

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৯

নোবেল পুরস্কারে রসায়নের পর এবার সাহিত্যেও নারীদের জয়। মার্কিন কবি লুইস গ্লুক পেয়েছেন এবারের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি তার নাম ঘোষণা করে। বুধবার রসায়নে যৌথভাবে নোবেল জিতেছিলেন এমানুয়েলে কার্পেন্তিয়ের ও জেনিফার এ. ডুডনা। খবর রয়টার্স ও ডেইলি মেইলের

সুইডিশ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, গ্লুককে (৭৭) নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তার অসামান্য কাব্যকণ্ঠ ও নিভাবরণ সৌন্দর্যবোধের কারণে যা ব্যক্তিসত্তাকে বরাবর সার্বজনীন করে তুলেছে। গ্লুকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে তার ১২টি কবিতার বই। কেবল তাই নয়, সাহিত্যে তার বেশকিছু জনপ্রিয় প্রবন্ধও রয়েছে। নোবেল কমিটি বলেছে, গ্লুকের সব সৃষ্টিতেই রয়েছে স্পষ্টবাদিতা। কখনো সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি। ছোটবেলা থেকে পারিবারিক জীবন এবং মা-বাবা ও ভাইবোনের সঙ্গে চমত্কার সম্পর্ক ছিল গ্লুকের। সেই বিষয়গুলোকে তিনি সার্বজনীন করে তুলেছেন। তার লেখায় আছে মিথ ও শাস্ত্রীয় মোটিফ থেকে প্রেরণা নিয়ে বিশ্বজনীন হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা।

লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের জন্ম নিউ ইয়র্ক শহরে। বেড়ে উঠেছেন নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। গ্লুকের কবিতায় উঠে এসেছে মানবজীবনের বিভিন্ন সংকট, অভীপ্সা ও প্রকৃতি। নিঃসঙ্গতা ও বিষণ্নতা তার কবিতার অন্যতম লক্ষণ। আলোচকরা তার কবিতায় খোঁজ পেয়েছেন আত্মজৈবনিকতার সঙ্গে ধ্রুপদী মিথের গূঢ় আন্তসম্পর্ক। তার রচনায় অনেকেই রাইনের মারিয়া রিলকে এবং এমিলি ডিকিনসনের উত্তরাধিকারকে খুঁজে পান। সেদিক থেকে বিচার করলে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সাহিত্যের মূলধারা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। ম্যাসাচুসেটসের ক্যাম্ব্রিজে বাস করা গ্লুক সাংবাদিকদের কাছে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। গ্লুক এর আগে পুলিত্জার পুরস্কারও পেয়েছেন। তিনি ২০০৩-০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পয়েট লরেট’ খেতাবে ভূষিত হন। ২০১৫ সালে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গ্লুককে শিল্প ও মানবিকতায় ন্যাশনাল মেডাল দিয়েছিলেন।