চাটমোহরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:১২

পাবনার চাটমোহরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি, আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। প্রায় একই ভাবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আরেক প্রবাসীর স্ত্রীও প্রতারণার শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক বখাটের দ্বারা।

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, চাটমোহরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন গোলজার হোসেন (৩৫) নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা। এ ঘটনায় ঐ আওয়ামী লীগ নেতাসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা ঐ গৃহবধূ। অভিযুক্ত ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে ও জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। পুলিশ গোলজারকে গ্রেফতার করেছে। চাটমোহর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঐ গৃহবধূর স্বামী দুই বছর আগে ইরাকে যান। সেখান থেকে স্ত্রীর কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। গোলজার হোসেন এই সুযোগে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এক মাস আগে তার স্বামী বাড়ি ফিরে আসেন এবং টাকা-পয়সার হিসাব চাইলে গোলজারকে ধার দিয়েছেন বলে জানান।  কিন্তু টাকা চাইতে গেলে তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়। বুধবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে ঐ গৃহবধূ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগ নেতা গোলজার হোসেন বলেন, ধর্ষণের মিথ্যে অভিযোগে আমি ফেঁসে গেছি। সম্পর্কের কারণে কিছু টাকা নিয়েছিলাম। এখন সেটাই আমার জন্য বিপদ হলো। চাটমোহর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গোলজারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠনো হয়েছে। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

মির্জাপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর

আপত্তিকর ছবি ফাঁস

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক প্রবাসীর স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় শিশু সন্তান নিয়ে বাড়ি ছাড়া হয়েছেন এক গৃহবধূ। আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করে এ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মঞ্জুর রহমান (২৬) নামে বখাটে যুবক। এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় মঞ্জুর হুমকি দিয়ে চলেছেন। ফলে পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে গৃহবধূ অভিযোগ করেছেন। বখাটে মঞ্জু গ্রেফতার না হয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামে অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রতারণার শিকার প্রবাসীর স্ত্রী জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে থাকেন। এক শিশু সন্তান নিয়ে তিনি বাড়িতে থাকেন। এই সুযোগে হাড়িয়া গ্রামের ইন্নছ আলীর বখাটে পুত্র মঞ্জুর তাকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এক পর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপনে বিবস্ত্র অবস্থার ভিডিও এবং ছবি ধারণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক বছরের ব্যবধানে তার নিকট থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আগস্ট মাসে মঞ্জুর ৬ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় সেই ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন। এ কারণে তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে শিশু সন্তানসহ বিতাড়িত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মঞ্জুর সাংবাদিকদের বলেন, ঐ প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণেই এসব ভিডিও এবং ছবি তুলেছি। আমার মোবাইল থেকে অন্য কেউ এগুলো ফেসবুকে দিয়েছে। মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, গৃহবধূ পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।