২ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ পাঁচ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে আদালত। অন্য তিন জন হলো- বরকতের স্ত্রী আফরোজ আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আব্দুস সাদেক মুকুল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করে সিআইডি। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাদের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপস কুমার পাল।
পিপি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস এই পাঁচ জনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আবেদন করেন।
গত ৭ জুন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৬ জুন বরকত ও হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। এছাড়া মাদক কারবার এবং ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি ও নন-এসিসহ ২৩টি বাস ও পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। সেই সঙ্গে ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন তারা।
মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রথম জীবনে দুই ভাই রাজবাড়ীর এক বিএনপি নেতার সঙ্গী ছিলেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর ঐ এলাকায় এক আইনজীবী খুন হন। ঐ হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল।
