বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ভেঙে ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ রিজার্ভ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই রিজার্ভ এ পর্যায়ে এসেছে। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কারণে আমদানি বাণিজ্য কমে যাওয়া অন্যতম কারণ। এছাড়া করোনাকালে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান আগের চেয়ে বেড়েছে। এসব কারণে বেড়েছে রিজার্ভ।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসেবে ধরা হয়। গত কয়েক বছরের গড় হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশকে আমদানি বাবদ প্রতিমাসে চার বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশের কাছে এখন ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্য সময় রিজার্ভ বাড়ার ক্ষেত্রে রপ্তানি ভালো ভূমিকা পালন করলেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত কয়েকমাস ধরে রপ্তানি বাণিজ্য অনেকখানি পিছিয়ে পড়েছে। করোনার আগে থেকেই রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দা যাচ্ছিল। অবশ্য গত জুলাই থেকে আস্তে আস্তে রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি ২৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে দেশে ৬৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সেপ্টেম্বরে ২১৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। একক মাস হিসেবে যা দেশের ইতিহাসে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে চলতি বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল। ঐ মাসে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এসেছিল।
রিজার্ভের ব্যবহার বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, রিজার্ভ অনেক বেড়েছে, এজন্য যেখানে সেখানে খরচ করা যাবে না। খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে মুদ্রার মান বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ডলারের তুলনায় টাকার মান কিছুটা কমাতে হবে। তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিসহ সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় আরো বাড়বে। মানুষের হাতে বেশি টাকা হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছেও নগদ টাকার পরিমাণ বাড়বে।
