ফেনীর সোনাগাজীতে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে তমিজ উদ্দিন নয়ন (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১ অক্টোবর সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশু। শিশুটির বাবা নয়নের দোকানে কর্মচারীর কাজ করতেন। সম্পর্কে নয়ন ওই স্কুলছাত্রীর জ্যাঠা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের চুনি মাঝি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তমিজ উদ্দিন নয় ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে ও ৭নং ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি। এদিকে গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে নয়নকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
সূত্র জানায়, ওই গ্রামের চুনি মাঝি বাড়ির বাড়ির সামনে তমিজ উদ্দিন নয়নের ফার্নিচার দোকান রয়েছে। গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে ওই দোকানের কর্মচারীর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে নয়ন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে ছাত্রী ও তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেয় নয়ন। বিষয়টি নয়নের স্ত্রী স্বচক্ষে দেখে ফেললে তার মুখ বন্ধ করতে তাকে মারধরও করা হয়।
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ায় এক কান দুই কান হতে হতে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ওই ছাত্রী তার পিতা-মাতার কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ননা দেয়। পরে মা বাদি হয়ে ওই রাতেই তমিজ উদ্দিন নয়নকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ওই ছাত্রীর মা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি থানায় গিয়ে মামলা করেছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুর রহিম সরকার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তমিজ উদ্দিন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। শুক্রবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ওই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে আদালতে জবানবন্দি দেয় ওই ছাত্রী। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক এসি
