কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক ফোর লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই দলীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সওজের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি দখলের মহোত্সব চলছে। ঐ ফোর লেনের জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার বাজার এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা সড়কের পূর্ব পার্শ্বের বিভিন্ন স্থানে সারিসারি বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সওজের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি স্থায়ীভাবে দখলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। কেউ কেউ দখলকৃত সীমানা নির্ধারণ করে রেখেছেন, আবার কেউ দোকানপাট নির্মাণও শুরু করে দিয়েছে। এদিকে সাংবাদিকরা সরেজমিনে সেখানে গেলে নেতা পরিচয়ে দুই ব্যক্তি দলবল নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়। এছাড়া স্থানীয়দের কয়েক জন মিডিয়ার সামনে কথা বলায় তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক ফোর লেন মহাসড়কের কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন স্থানে দখলবাজরা সড়কের জায়গা অবৈধভাবে গ্রাস করে ফেলছে। সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি দখল হয়েছে বিপুলাসার বাজার এলাকায়। সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কয়েক জন ঐ বাজারের বিভিন্ন স্থানে সড়কের পার্শ্বের অধিগ্রহণকৃত, ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ঐতিহ্যবাহী বেরোলা খালের অংশবিশেষসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যে দখলে নিয়েছেন। প্রভাবশালী ও অস্ত্রধারীদের ভয়ে এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ কিংবা তাদের দখলযজ্ঞে বাধা ও প্রকাশ্যে নাম উচ্চারণ করতে সাহস পায় না। ইতিপূর্বে দখলে বাধা দেওয়ার কারণে মানিক মিয়া নামে একজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এদিকে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা সেখানে গেলে দুই ব্যক্তি দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের যুব নেতা পরিচয় দিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়। এছাড়া সড়কের সম্পত্তি দখলের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় কয়েক জন মিডিয়ার সামনে কথা বলায় শুক্রবার তাদের বাড়িঘরে গিয়ে নানাভাবে হয়রানিসহ এলাকাছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে বলে দখলদারদের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল বলেন, সড়কের জায়গা দখলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় কয়েক জন দলের পরিচয়ে সড়কের জায়গা দখল করেছে বলে জেনেছি। মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা এ বিষয়ে বলেন, চার লেনের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তারা চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
