অতিবৃষ্টির কারণে রোদের দেখা মিলছে কম
গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাড়াশে অতিবৃষ্টির কারণে ভরা মৌসুমেও শুঁটকি উত্পাদনকারী ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা মিলছে কম, তাই মাছ শুকাতে পারছেন না ব্যবাসায়ীরা। শুঁটকি প্রস্তুত করার জন্য প্রতি চাতালে দিনে প্রায় লাখ টাকার মাছ প্রয়োজন। অথচ বৃষ্টির শঙ্কায় অল্প টাকার মাছও কিনছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে শুঁটকির চাতালের বেশির ভাগ চাটাই মাছবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকছে। সরেজমিনে উপজেলার মহিষলুটি এলাকার মৌসুমি শুঁটকি উত্পাদনকারী ব্যবসায়ী হাইদুর ইসলাম, দেলবার হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন, আলমাছ আলী, আলম ও নান্নু মিয়ার শুঁটকির চাতালে দেখা যায়, তাদের চাতালগুলো মাছশূন্য পড়ে আছে। শুধু একটি শুঁটকির চাতালের মাত্র একটি চাটাইয়ে সামান্য পুঁটি মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত ২০ বছর যাবত্ তারা বর্ষা মৌসুমে বগুড়া, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে তাড়াশে এসে ভাড়া জায়গায় শুটকির ব্যবসা করে থাকেন। এবছর ব্যবসায় সীমাহীন লোকসান গুণতে হচ্ছে। বৃষ্টিতে প্রায় মাসখানেক যাবত্ রোদে মাছ শুকাতে পারছেন না তারা। যে কারণে বাজারে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও শুঁটকির জন্য লাখ টাকার মাছ তো দূরের কথা, হাজার টাকার মাছ কিনতেও সাহস পাচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, শুঁটকি একদিনের রোদে প্রস্তুত করা না গেলে মাছে পচন ধরে যায়। আর পচে যাওয়া মাছের শুঁটকি ওজন ও দামে কম হয়। চলনবিলের মিঠা পানির পুঁটি, খৈলসা, চান্দা, মলা, ইচা, টেংড়া, গুচি, ক্যাকিলা, টাকি, শোল ও বোয়াল মাছের শুঁটকির কদর দেশ জুড়ে। এ অঞ্চলে সরকারিভাবে একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে শুঁটকি উত্পাদনকারী ব্যবসায়ীদের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যেত। এদিকে শুঁটকি উত্পাদন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শ্রমিক খাদিজা পারভিন, শিরি খাতুন, আয়শা খাতুন, ইদ্রিস আলী, এসাহাক আলী, জাহিদুল ইসলাম, তয়জাল হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজের তেমন সুযোগ থাকে না। মূলত শুঁটকির চাতালে কাজ করেই স্থানীয় বেশকিছু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এখন তারা অলস সময় পার করছেন। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, চলনবিলে এখনো টইটমু্বর পানি। শিগগিরই আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন শুঁটকি উত্পাদনকারী ব্যবসায়ীরা। হিমাগার স্থাপনের ব্যাপারে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
