সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০০:১০

মো. আরাফাত রহমান                                                                                   

                                                                  

শরীর ভালো না থাকলে আমরা মনের দিক থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ি, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমাদের আচরণের মাধ্যমে। বাস্তব জীবনে ইতিবাচক আবেগীয় অবস্থা এবং মানসিক তৃপ্তি লাভের মধ্য দিয়ে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতার দিন হিসেবে ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য—সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য:বেশি বিনিয়োগ, বেশি সুযোগ; প্রতিজনে, সর্বস্থানে।

শরীর ও মনের দিক থেকে সুস্থ অবস্থা ও পরিবেশের সঙ্গে সুসঙ্গতি বিধান করাকে মানসিক স্বাস্থ্য বলে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের সকল আচরণই উদ্দেশমুখী। এ উদ্দেশমুখী আচরণের মূলে রয়েছে কতগুলো  চাহিদা। মানুষ যদি বাস্তব জীবনের সকল সমস্যা ও সংকট মেনে নিয়ে তার চাহিদাগুলো স্বল্পতম সংঘর্ষ ও  সংগ্রামের  মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে পারে তবেই ইতিবাচক আবেগীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়, মানসিক তৃপ্তি লাভ হয় এবং সঙ্গতি বিধান সম্ভব হয়। এ সার্থক সঙ্গতি বিধানের মধ্যে দিয়েই মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষিত হয়েছে তখনই বলা যায় যখন ব্যক্তি মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক দিক থেকে সুস্থ নীরোগ ও সুখী হয় এবং জীবনের সর্বস্তরেই তার কুশলতা বর্তমান থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যকে ব্যাখ্যা করে মানসিক সুস্বাস্থ্য হিসেবে সংস্থাটি মত দিয়েছে যে, মানসিকভাবে স্বাস্থ্যবান একজন মানুষ সেই যে তার নিজের ক্ষমতা বুঝতে পারে, জীবনের স্বাভাবিক চাপসমূহের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে এবং সমাজে সব স্তরে অবদান রাখতে পারে। শরীরের সঙ্গে মনের একটি আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না। পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপকের সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের মন কখনো উত্ফুল্ল এবং কখনো দুঃখ  ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই সবসময় মানসিক দিক থেকে পুরোপুরি সুস্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—১. শারীরিক ও বৃদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। অন্যদিকে চার পাশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য চিন্তা করার ক্ষমতা, যুক্তি প্রয়োগ ও বিচার করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক; ২. আত্মবিশ্বাস: ব্যক্তির দৃঢ় চিত্ত ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া; ৩. পরিস্থিতি মানিয়ে চলা: মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তিরা জীবনে কোথাও পিছপা হয় না। মানসিক শক্তির কারণে তারা যে কোনো পরিবেশ মোকাবিলা করতে পারে; ৪. পরিপূর্ণ আত্মতৃপ্তি; ৫. নিজের চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা: মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তি তার চাহিদার মাত্রা সম্পর্কে সব সময় সচেতন থাকে। অবাস্তব চাহিদা সৃষ্টি করে সে অসুখী হতে চায় না; ৬. আত্মমূল্যায়ন ক্ষমতার অধিকারী :মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারীরা সব সময় নিজেকে মূল্যায়ন করতে পারে।

ঢাকা এবং অন্যান্য কিছু শহরে মানসিক স্বাস্থ্য চিকিত্সার সুবিধা পাওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠী এধরনের সেবা খুব অল্প মাত্রায় ভোগ করে থাকে। এখনো মানসিক রোগের ক্ষেত্রে পূর্বসংস্কার, কুসংস্কার এবং অজ্ঞতা এ দেশে দেখা যায়। মানসিক অসুস্থতা অতিপ্রাকৃত অথবা ভৌতিক শক্তির দ্বারা ঘটে এবং এদের অধিকাংশই অনিরাময় যোগ্য—এটি একটি প্রচলিত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে জ্ঞান এবং সচেতনতা এখন পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মানসিক রোগীদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো উন্নত কেন্দ্র নেই। মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং আধুনিক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা সুবিধার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।

ঢাকা