যানজট থেকে মুক্তি নাই!

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০০:১১

অমিত বণিক

 

ঢাকা যানজটের জন্য বিশ্বখ্যাত। বহু গবেষণায় উঠে এসেছে এই যানজটের কারণে নাগরিক জীবনে এর প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। অপরিকল্পিত নানা উদ্যোগ এবং হুটহাট নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত যানজটের ব্যাপকতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদগণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার রাস্তার ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে ছোট বা ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা; যার বেশিরভাগ চালকই কোনো নিয়ম-কানুন মানে না। অযান্ত্রিক যানবাহন কখনো কখনো পুরো সড়কের দখল নিয়ে নেয়। বাসগুলোকে নিয়ম মানানোর সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। যত্রতত্র, এমনকি মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো এখন নিয়মিত চিত্র। এমনিতে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা সরু, তার ওপর অবৈধ পার্কিংয়ের অন্ত নেই। কোথাও কোথাও একাধিক সারিতে পার্কিং। ফলে রাস্তা আরো সরু হয়ে যায় এবং যানজট ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

আগে ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলের যেখানে দিনে দুটি বা তিনটি ট্রিপ হতো, রাইড শেয়ারিং চালু হওয়ায় সেখানে ট্রিপ সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এটি রাস্তার ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ইলেক্ট্রনিক সিগন্যালব্যবস্থা চালু থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত হয় হাতের ইশারায়। কোথাও কোথাও বাঁশ বা দড়ি বেঁধেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। তার ওপর আছে কতিপয় প্রভাবশালীর ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে উলটোপথে গাড়ি চালানোর প্রবণতা। এর মধ্যে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হয়েছে উন্নয়নের চাপ। এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তার একটি বড় অংশ মেট্রো রেলের কাজের জন্য ঘেরাও দিয়ে রাখা। ঘেরাও দেওয়ার আগে এ রাস্তার যানবাহনের চাপ মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিভিন্ন সংস্থার ধারাবাহিক খোঁড়াখুঁড়িও একইসঙ্গে চলছে। যানজটে নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

ঢাকাকে বিশ্বের দ্বিতীয় দূষিত নগরী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায়। এটা আমাদের জন্য সুখকর কোনো খবর নয়। যানজটের কারণে প্রতিদিন যে বাড়তি জ্বালানি পোড়ে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী যানজটমুক্ত হলে উত্পাদনশীলতায় তা যে অবদান রাখবে, তাতে জাতীয় প্রবৃদ্ধি প্রতি বছরই ৭ শতাংশের বেশি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার টার্গেট পূরণ সহজতর হয়ে দাঁড়াবে। এজন্য মেট্রোরেল এবং ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রাসঙ্গিকতা থাকলেও সবচেয়ে জোর দিতে হবে ট্রাফিক শৃঙ্খলাকে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত না হলে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও কোনো সুফল যে অর্জিত হবে না, এ সহজ সত্যটি সবকিছুর আগে অনুধাবন করতে হবে। রাজধানী হিসেবে ঢাকা হবে পরিচ্ছন্ন এবং স্বচ্ছন্দে বসবাসের উপযোগী একটি শহর—এমনটিই প্রত্যাশা সবার।

ঢাকা