প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত হলে ৯০ ভাগ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯

স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস আজ

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

বাংলাদেশে প্রতি বছর ১২ হাজার ৭৬৪ নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৮৪৪ জন মারা যান। স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু দ্রুত শনাক্ত করতে না পারার কারণেই স্তন ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। প্রাথমিক স্তরে এ রোগ শনাক্ত হলে ৯০ শতাংশের বেশি রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু তৃণমূলে এখনো নারীরা এ রোগ সম্পর্কে সচেতন নন। দেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের স্থান শীর্ষে, যা ১৯ শতাংশ। আর নারী-পুরুষ মিলিয়ে হিসাব করলে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’—আইএআরসি সর্বশেষ এ তথ্য জানায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ও সঠিক চিকিত্সায় ৯০ শতাংশ স্তন ক্যানসার রোগীর সুস্থ হওয়া সম্ভব।

এমন পরিস্থিতিতে আজ দেশে পালিত হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস-২০২০। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘স্থূলতা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়’। কোভিড-১৯ সংকটের মাঝেও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি উদ্যাপিত হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে মাস জুড়ে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। আটটি সংগঠনের মোর্চা ‘বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম’ ও আন্তর্জাতিক রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ’ যৌথভাবে দিবসটি পালন করবে। দেশে ৮মবারের মতো পালিত হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। ২০১৩ সাল থেকে বেসরকারিভাবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। স্তন ক্যানসার সম্বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোই এই দিবসের লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা মাসিকের তিন থেকে চার দিন পর নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন। স্তনের কোথাও চাকার অস্তিত্ব পেলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক কোনো কষ্ট থাকে না। তাই রোগ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগে রোগী বুঝতেও পারেন না যে, তার স্তন ক্যানসার হয়েছে। রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে চিকিত্সকের কাছে আসেন। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা যায় তাহলে ছোট অস্ত্রোপচারে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। স্তন ক্যানসার আক্রান্ত নারীরা এখনো লোকলজ্জার ভয়ে সময়মতো ডাক্তারের শরণাপন্ন হন না। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে দেশে স্তন ক্যানসার বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, স্তনে সব চাকাই ক্যানসার নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, স্তনের চাকার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাকি ৯০ শতাংশই বিনাইন টিউমার বা অন্য কোনো সাধারণ রোগ, যা সহজে নিরাময় করা সম্ভব। সুতরাং সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ধরন জানা অত্যন্ত জরুরি।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে প্রতি বছর নারীদের একবার করে স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন বলেন, শুধু বাড়িতে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করে বসে থাকলেই চলবে না। বছরে একবার বিশেষজ্ঞের দ্বারা স্তন পরীক্ষা (মেমোগ্রাফি) করতে হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যানসার ইপিডেমোলজি বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা এবার স্তন ক্যানসার স্কিনিং কার্যক্রমে সবাইকে উত্সাহিত করার ওপর জোর দিচ্ছি।

আজ সকাল ৯টায়, জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের মাঝে লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম পাশে অবস্থান কর্মসূচি ও তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ ও গোলাপি রঙের মাস্ক বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় রোটারির উদ্যোগে ভার্চুয়াল ব্রেস্ট ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস সেমিনার।  

এছাড়া ফোরামের অন্তর্ভুক্ত ‘কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার বা সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবা কেন্দ্র শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্তন স্ক্রিনিং ও প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হবে। এটি রাজধানীর ৭/৯ লালমাটিয়া, বি-ব্লকে অবস্থিত। স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং, প্রাথমিক সেবা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।