ধর্ষণ মামলায় গভীর রাতে জামিন

আদালতের নির্দেশে বাড়ি ফিরল বাকেরগঞ্জের চার শিশু

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩২

উচ্চ আদালতের আদেশের পর বাকেরগঞ্জে ছয় বছরের কন্যা শিশু ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার চার নাবালক শিশু আসামিকে স্ব স্ব বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে এসি মাইক্রোবাস যোগে ঐ চার শিশুকে বাকেরগঞ্জের রুনশী গ্রামে নিয়ে আসেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়ের নেতৃত্বাধীন টিম। স্বজনদের হাতে ঐ চার শিশুকে বুঝিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এদের সবার বয়সই ছয় থেকে নয় বছর।

বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনসী গ্রামে খেলার ছলে শিশু কন্যা ধর্ষণের অভিযোগে গত ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর চার শিশু আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ অক্টোবর তাদের আদালতে প্রেরণ করলে আদালতের বিচারক তাদের যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ৯ অক্টোবর উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রাত ১০টায় তাদের জামিনের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন এবং শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে এসি মাইক্রোবাসে করে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আসার পর এমন আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত শিশু সুলায়মান হাওলাদার তামিমের বাবা আ. ছালাম হাওলাদার বলেন, যারা আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে, তাদের বাড়ি থেকে পাকা রাস্তায় ওঠার জন্য নিজস্ব রাস্তা থাকলেও সব পুরুষ-মহিলা আমাদের বাড়ির ভেতর দিয়ে পথ বানিয়ে যাতায়াত শুরু করে। আমাদের বাড়ির লোকজন বাধা প্রদান করলে শত্রুতার সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের ঘায়েল করতেই মূলত এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন, আমরা উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ডাক্তারদের প্রাথমিক রিপোর্ট এবং শিশুকন্যার পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা নিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আদালতের কাছে সোপর্দ করেছি। চূড়ান্ত তদন্ত শেষে সবকিছু পরিষ্কার হবে।

এদিকে হাইকোর্ট ঐ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী ১১ অক্টোবর তলব করেন। একই সঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঐ চার শিশুকে তাদের অভিভাবকসহ ঐ দিন আদালতে হাজির থাকতে বলেছেন। পাশাপাশি বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একই দিন সাড়ে ১০টার মধ্যে ভিকটিম শিশুর ধর্ষণ সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে। চার শিশুকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ প্রদানকারী বরিশাল বাকেরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকেও ঐদিন হাজির হতে বলেছে হাইকোর্ট।