বিশ্ব জুড়ে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই এবং খাদ্য সুরক্ষা গড়ে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। নোবেল কমিটি পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করতে গিয়ে গতকাল শুক্রবার বলেছে, অরাজকতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভালো ভ্যাকসিন হচ্ছে খাদ্য। এ নিয়ে ২৫তম বার শান্তি পুরস্কার পেল কোনো সংস্থা। খবর রয়টার্স ও ডয়চেভেলের
ইতালির রোম ভিত্তিক সংস্থা জাতিসংঘের খাদ্যসহায়তা বিষয়ক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, প্রতি বছর সংস্থাটি ৮৮টি দেশে ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে খাদ্যসহায়তা দিয়ে থাকে। বিশ্বে প্রতি ৯ জনে একজন এখনো পর্যাপ্ত খাদ্য পান না। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিট রেইস অ্যান্ডারসেন বলেছেন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য খুব জরুরি। তিনি বলেন, যুদ্ধ এবং সংঘাতে মূল অস্ত্র হচ্ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সৃষ্টি। আর এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চালকের আসনে আছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। করোনা ভাইরাসের সময় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে বেরিট রেইস অ্যান্ডারসেন বলেন, অরাজকতার বিরুদ্ধে ক্ষুধাই হচ্ছে সর্বোত্তম টিকা।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের মুখপাত্র টমসন ফিরি জেনিভাতে বলেছেন, এটা আমাদের কাছে গর্বের মুহূর্ত। এ বছর আমরা আমাদের কর্তব্যের অতিরিক্ত করার চেষ্টা করেছি। করোনা মহামারির সময় অতিরিক্ত কাজ করেছি। যখন বিশ্বের অধিকাংশ বিমান পরিষেবা থেমে গিয়েছিল, তখন খাবার ভর্তি আমাদের বিমান চালু ছিল। সংস্থাটির পক্ষ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, এই পুরস্কার মনে করিয়ে দিল, জিরো হাঙ্গার ও শান্তি হাত ধরাধরি করে চলে।
জাতিসংঘের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকে মানুষকে খাদ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য ১৯৬২ সালে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের জন্ম হয়। তাদের প্রথম প্রয়াস ছিল ভূমিকম্প বিধ্বস্ত উত্তর ইরানে মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া। এখন এই সংগঠনের সঙ্গে ১৭ হাজার কর্মী জড়িত, তারা মূলত সে সব দেশে ছড়িয়ে আছেন যেখানে মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছেন। এই পুরস্কারের জন্য এ বছর ৩১৮টি নামের মনোনয়ন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ২১১ ব্যক্তি ও ১০৭ সংস্থার নাম ছিল।
