প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য দেখছে বেবিচক

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫২

প্রধান র্পযটন জলো শহর কক্সবাজারকে যুগোপযোগী বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প নেয় সরকার। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। এর অধীনে একটি অত্যাধুনিক রানওয়ে নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য সকল আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিলো।

কিন্তু ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির সদস্যদের প্রবল বিরোধিতায় দরপত্র প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে-রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে সেখানেও ঢুকে পড়েছে বিশ্বব্যাংকের একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্ধারন করেছে তার মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। 

বেবিচক সূত্র জানায়, ‘কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর এক্সটেনশন অব রানওয়ে অব কক্সবাজার এয়ারপোর্ট’-শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবার কথা। এর জন্য যে দরপত্র আহবান করা হয় তাতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের দরপত্র জমা দেয়। সেগুলো থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে নির্ধারন করা হয়। এগুলো হচ্ছে- জার্মানির প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্ট কনসালটিং পার্টনার্স জিএমবিএইচ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান উজু  ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি. এবং সানজিন ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড আর্কিটেক্সচার কো. লি. ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান মেইনহার্দ (সিংগাপুর) পিটিই লি. এবং এডিপি ইঞ্জিনিয়ারি, জাপানের নিপ্পন কোইকো. লি. এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইওশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি.। এর মধ্যে ইওশিন ইঞ্জিনিয়ারিং কো. লি. বিশ্বব্যাংকের একটি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান।   
 
জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রকল্পরে স্থাপনা কাজ বা ইপিসি কাজের দরপত্র একবার বাতিল হয়ে গেছে। কার্যাদেশ দেয়ার জন্য ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে যে কোম্পানিটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো তা ছিলো বিশ্বব্যাংকের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীসভা কমিটির সভায় কমিটির কয়েকজন সদস্য দরপত্র মূল্যায়নের অস্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুললে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বেবেচিক কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো সদস্য সদুত্তর দিতে পারেননি। মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান রানওয়ে প্রকল্পের জন্য তাদরে দরপত্র জমা দনে। পরর্বতীতে প্রশংসনীয় গতিতে মূল্যায়ন কাজ শষে হয়। দশটি মধ্যে কেবল একটি দরপত্র গ্রহণযোগ্য হয় মূল্যায়ন কমটিি এবং সংশ্লষ্টি কর্তৃপক্ষের বিচারে। দুঃখজনক হলেও, এ সকল দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেবিচকের মূল্যায়ন কমিটি বা সংশ্লিষ্ট র্কমর্কতারা চরম অনিয়মের আশ্রয় নেন বলে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা সদস্যদের কাছে প্রতীয়মান হয়। তাই কমিটির বৈঠকে পুনরায় যাচাই এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তদন্তে দরপত্রগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ আইএমইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আইএমইডিও তাদের তদন্তে মুল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পায়। পরবর্তীতে মন্ত্রীসভা কমিটি দরপত্রটি বাতিল করে দেয়। প্রকল্পটির জন্য পুনরায় দরপত্র আহবান করা হলে গত পহেলা অক্টোবর জমা দেয়ার দিন ধার্য্য করা হয়। সংস্থার কাজের জন্য একে একে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করার ফলে বেবিচকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হবার পরও যথাসময়ে তা বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।  

এখানে কেবল একটি প্রকল্পের দুটি কাজের বিষয় তুলে ধরা হলো। এসব কর্মকাণ্ডকে লঘূ-ভুল, অবহেলা, উদাসীনতার বাহানা দিয়ে অনিয়মের ধারাবাহিকতা চলমান রেখে অথবা যে বা যারা এসবের সাথে জড়িত তাদেরকে বহাল তবিয়তে রেখে প্রকল্পগুলোর সাফল্য আশা করা নিতান্তই বোকামি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/কেকে