প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা, ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা 

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৭

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে (১৫) ধর্ষণ করার পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ধর্ষণে অভিযুক্ত চার সন্তানের জনক প্রভাবশালীদের দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জানা গেছে, উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাটাজোর গ্রামের গৃহহীন এক দিনমজুর পার্শ্ববর্তী তার চাচাত ভাইয়ের ঘরে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে বসবাস করেন। দিনমজুর হওয়ায় কাজের জন্য তিনি দিনের বেলা বাইরে থাকেন। 

নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধীর পিতা (৬২) অভিযোগ করেন বলেন, আমার কিশোরী কন্যাকে প্রতিবেশী আরজ বেপারীর পুত্র চার সন্তানের জনক লম্পট সিরাজুল ইসলাম বেপারী (৫০) সরলতার সুযোগ নিয়ে টাকার প্রলোভন দিয়ে সিরাজের ঘরে ও নৌকায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কারণে আমার কন্যা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি ধর্ষক সিরাজের পুত্র ও বাড়ির লোকজনদের জানালে তারা বিষয়টি কাউকে জানাতে বারণ করে শাসিয়ে দেয়। 

নির্যাতনের শিকার ওই প্রতিবন্ধীর চাচি (৭০) জানান, গত ৩ থেকে ৪দিন যাবত কিশোরী বমি করতে থাকে। বুধবার স্থানীয় বাটাজোর ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। ডাক্তারের পরামর্শে রক্ত ও প্রসব পরীক্ষা করালে তাতে তার পজিটিভ আসে। 

নির্যাতনের শিকার ওই প্রতিবন্ধীর চাচাত ভাবি (৩০) জানান, তার প্রতিবন্ধী ননদকে অন্তঃসত্ত্বার কথা জিজ্ঞাসা করলে সে সিরাজুল বেপারীকে দেখিয়ে দেয় এবং ধর্ষণের বর্ণনা দেয়।

আরও পড়ুন: ৩ বার পরাজয়ের পরে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থনে জয় পেল নৌকা

এলাকাবাসী জানান, সিরাজুল ইসলাম ছোট বেলা থেকেই লম্পট প্রকৃতির লোক। এ যাবত পর পর তিনটি বিবাহ করেছে। বর্তমানে তার সংসারে কোন স্ত্রী নেই। 

ওই গ্রামের সেলিম হাওলাদার বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল সিরাজের পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমেছে। 

বাটাজোর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মান্নান এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। ইউপি চেয়ারম্যান এলাকায় নেই। তিনি এলাকায় ফিরে আসলে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। 

বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল রব হাওলাদার মুঠোফোনে বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে আমি কোন সালিশ করি না। আইন অনুযায়ী যা হয়,তাই হবে। 

গৌরনদী মডেল থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেনের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার কাছে (এ প্রতিনিধির) প্রথম শুনলাম। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

ইত্তেফাক/এএএম