পিরোজপুরে ইকোট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৭

স্বরূপকাঠির পেয়ারাবাগান ও নাজিরপুর বৈঠাকাটা-বিশারকান্দি বিল

নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পেয়ারাবাগান এবং বৈঠাকাটা-বিশারকান্দি বিলে কমিউনিটি ও ইকোট্যুরিজমের অপার সম্ভাবনা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর, বরিশালের বানারিপাড়া ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে এরই মধ্যে গড়ে ওঠা এবং প্রক্রিয়াধীন সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এ সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। এ বিলের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির এক অবাক বিস্ময় যাকে ঘিরে প্রতিভাত হয়েছে গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকার অনবদ্য প্রদর্শনী।

বিশ্ব কৃষি ঐতিহ্য বলে জাতিসংঘ স্বীকৃত ভাসমান শাকসবজি চাষের একক ও বিস্তৃত জলাভূমির ব্যতিক্রমী এ দর্শনীয় স্থানটি যেমন এখানে বিদ্যমান, তেমনি রয়েছে শীতকালীন নানা ফসলের আবাদ ‘কান্দি-বের’ পদ্ধতির সমারোহ। দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান বাজার বৈঠাকাটায় নৌকায় নদীতে বেচাকেনার দেখা মেলে শস্যদানা, শাকসবজি, ফল-ফুলসহ রবি ও খরিপ মৌসুমের বাহারি কৃষিপণ্য। নদী-খাল-বিল-ডোবা-পুকুরে দেশি ও স্বাদু পানির নানা প্রজাতির মাছের উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় এখানকার প্রকৃতিঘন পরিবেশের কথা। উদ্ভিদ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্য আর সবুজের অপরূপ সমাবেশ যে জনপদের নৈসর্গিক বৈশিষ্ট সেখানে পর্যটনের দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে সহজাত তাগিদেই—এ মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম পর্যটন ব্যবসায়ী রিভার অ্যান্ড গ্রীন ট্যুরেসর প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন হেলাল। তিনি বলেন, প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে উত্সাহীজনের আগ্রহে বা গবেষণার প্রয়োজনে এ জলাভূমির আকর্ষণ আর নাম ছড়িয়ে পড়ছে দিন দিন। পাশাপাশি পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার একটি অভিন্ন বেসিনের বিলে সৃজিত স্বরূপকাঠি জাতের পেয়ারা বাগান। যা দেশি-বিদেশি অনেককেই  টেনে আনছে আটঘর-কুড়িয়ানা আর ভিমরুলির এ নিভৃতে। সম্প্রতি এ দুটি বিলাঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিল দুটির উপকণ্ঠে পৌঁছানো যাচ্ছে চার চাকার গাড়িতে করে। বরিশালের বানারীপাড়া থেকে ফেরি পেরিয়ে দুটি সড়ক হালকা যানবাহন চলার উপযোগী। অন্যদিকে  পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা সদর-বৈঠাকাটা বাজার সড়কটি সরাসরি যানবাহন চলাচল উপযোগী হয়েছে দীর্ঘ সেতু নির্মাণে। বিশারকান্দির চৌমোহনীতে ৪০৫ মিটার একটি সেতুর নির্মাণ চলছে। ফলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া হয়ে সড়কপথেও আসা যাবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকার বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী। এরই মধ্যে পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তিদের ভিডিও কর্মশালায় এ ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব পর্যটন দিবসের কর্মশালায়ও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।