স্থায়ীভাবে ঘরে থেকে কাজের সুযোগ মাইক্রোসফট কর্মীদের

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৪

ফেসবুক ও টুইটারের পর এবার কর্মীদের স্থায়ীভাবে ঘরে থেকে কাজ করার সুযোগ করে দিল আরেক মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। চাইলে মাইক্রোসফটের যে কোনো কর্মী এই সুযোগ নিতে পারবেন। তবে তাতে অনুমোদন লাগবে স্ব স্ব বিভাগের ব্যবস্থাপকদের। বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

মহামারির কারণে কর্মীরা ঘরে বসে কাজ করতে বাধ্য হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে এই চর্চা স্থায়ীভাবে চালু রাখার প্রবৃত্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের এমন সিদ্ধান্ত সেই প্রবৃত্তিরই ফল। শারীরিকভাবে অফিসে কতজন কর্মীর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন রয়েছে তা এখন পুনর্বিবেচনা করছে কোম্পানিগুলো।

মাইক্রোসফট বলছে, শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে কাজ করার জন্য কিছু কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। ফলে কিছু কর্মীকে অফিসে হাজির থাকতে হবে। তবে বেশির ভাগের প্রয়োজন নেই। চাইলে ব্যবস্থাপকদের অনুমোদন না নিয়েই অনেক কর্মী পার্টটাইম ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন।

কর্মীদের জন্য কোম্পানির নতুন এক নির্দেশনায় মাইক্রোসফটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যেভাবে কাজ করি তা বিকশিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আর এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যেই স্বতন্ত্র কাজের শৈলী এবং ব্যবসার প্রয়োজনকে সমর্থন করার লক্ষ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি দ্বারা পরিচালিত।’

যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল থেকেই মাইক্রোসফটের ৪২ শতাংশ কর্মী ঘরে থেকে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্যে এই সংখ্যাটা আরো বেশি ৪৬ শতাংশ। প্রাথমিকভাবে অনেক কর্মী কোম্পানির এমন সিদ্ধান্তের প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। কিন্তু কয়েক মাস যাওয়ার পর অবশ্য কিছু জটিলতার কথাও শোনা গেছে অনেক কর্মীর মুখ থেকে।

এমনকি গত মাসে এক সম্মেলনে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা বলেন, ‘ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে বৈসাদৃশ্য না থাকায় মাঝেমধ্যে এমনটা মনে হয় যে, আপনি কাজের মধ্যেই ঘুমাচ্ছেন।’

এ নিয়ে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক নিকোলাস ব্লুম বলছেন, মহামারিকাল অতিক্রম করার পর অনেক কোম্পানি সপ্তাহে দুই দিন অফিসে এবং তিন দিন বাড়িতে বসে কাজ করার নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবছে; যা সভা, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্ব বহন করে।’