ঘাটাইলে ইউপি ভবনের জন্য পালটাপালটি জমি রেজিস্ট্রি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৫

মধ্যবর্তী স্থানে ভবন করার দাবি এলাকাবাসীর

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নব গঠিত লক্ষীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স ভবন স্থাপন নিয়ে দুই এলাকার জনগণ পালটাপালটি জমি রেজিস্ট্রি করেছে। লক্ষীন্দর এলাকার জনগণ লক্ষীন্দর গ্রামটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে দাবি করে লক্ষীন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে কমপ্লেক্স ভবন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য এলাকাবাসী ৮৫ শতাংশ জমিও রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। অপর দিকে সানবান্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নতুন ভবন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ঐ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন। তারাও ৩০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। তবে লক্ষীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ভবন লক্ষীন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পাশে করার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেনও চান ইউপি কমপ্লেক্স লক্ষীন্দরেই হোক। 

সম্প্রতি ঘাটাইলের তিনটি ইউনিয়ন ভেঙে ছয়টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রসুলপুর ভেঙে করা হয়েছে রসুলপুর ও লক্ষীন্দর ইউনিয়ন। লক্ষীন্দর নতুন ইউনিয়ন হওয়ায় ইউপি কমপ্লেক্স করা নিয়ে দুই এলাকার জনগণ পৃথক অবস্থান নেয়।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লক্ষীন্দরেই কমপ্লেক্সটি করার দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হলেও বিএনপি জামায়াতের ভোট নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পাশ করেছেন। ফলে তিনি সানবান্ধায় বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় ইউপি কমপ্লেক্সটি করতে চাচ্ছেন। এমনকি সেখানে যারা ৩০ শতাংশ জমি দিয়েছেন তারা সবাই বিএনপি পদধারী নেতা। অথচ লক্ষীন্দরে যারা জমি দিয়েছেন তাদের সবাই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান প্রভাব খাটিয়ে এটা সানবান্ধায় করতে চাচ্ছেন।

জানা গেছে, লক্ষীন্দরে কমপ্লেক্স করার জন্য চেয়ারম্যান মো. একাব্বর আলীর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এক সভা হয়। সেখানে সব ইউপি সদস্য লক্ষীন্দরে কমপ্লেক্স করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮৫ শতাংশ জমি এলাকাবাসী ইউপির নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে সংসদ সদস্য লক্ষীন্দরে পরিষদের নতুন ভবন করার সুপারিশ করেন। কিন্তু শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের একার বিরোধীকার কারণে কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ ঝুলে আছে।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান একাব্বর আলী জানান, এলাকার জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। সকল জনগণ যাতে সমান সুযোগ-সুবিধা পান এ জন্য ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান সানবান্ধা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পরিষদের নতুন ভবন করার জন্য সুপারিশ করেছি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেখানে সিদ্ধান্ত দিবেন সেখানেই ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মিত হবে।