ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসা ছাত্রকে শিকল দিয়ে বেঁধে তিন দিন ধরে নির্যাতন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৪

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

ঈশ্বরদীতে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে তিন দিন ধরে এক মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে। আমপাড়া শেষ করা মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের ঐ শিক্ষার্থীর নাম মোবারক (১১)। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ঐ শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনা ফাঁস হয়। এ ঘটনায় রাতেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ আব্দুল মমিন, শিক্ষক পিয়ারুল ইসলাম ও সিনিয়র শিক্ষার্থী সাব্বির আহম্মেদকে থানা হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে রাখা হয়।

মোবারকের পেছন দিকে কোমরের নিচে পা পর্যন্ত নির্মম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর ছাড়াও মোবারককে সাত বার থুথু ফেলে সেই থুথু চাটানো হয়েছে বলে তার মা মুর্শিদা অভিযোগ করেন। পালিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে শিশু মোবারক জানায়, মাদ্রাসায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। এজন্য সে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী মোবারক আটঘোরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে শিক্ষার্থীর বাবা নজরুল আসলাম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মোবারকের বাবা-মা অভিযোগ করেন, মোবারক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে দাশুড়িয়ায় খালার বাড়িতে যায়। সেখান থেকে বুঝিয়ে তাকে গত বুধবার মাদ্রাসায় ফেরত পাঠানো হয়। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর মোবারককে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্মমভাবে পেটানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় লাইন থেকে সে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে। শিকল বাঁধা অবস্থায় বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় এনে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল করিম জানান, তিনি ছিলেন না, ছুটিতে গিয়েছিলেন। পরে তার ছুটি মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করেন। অন্য এক শিক্ষক পিয়ারুল জানান, আমি বাঁধি নাই। ঐ শিক্ষার্থীর সম্পর্কে চাচা, সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির বেঁধে রেখেছিল। মাদ্রাসার হাফেজ সমাপ্ত করা সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির আহমেদ জানান, শিক্ষক পিয়ারুলই শিশুটিকে বেদম মারধর করেছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর ও অফিসার ইনচার্জ সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে রাতেই মাদ্রাসার শিক্ষকদের থানা হেফাজতে আনা হয়। শনিবার বিকেলে মাদ্রাসা শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।