চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন

নিক্সন চৌধুরীর সমর্থনে জয় পেল নৌকা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫০

ফরিদপুর চর ভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। পরপর তিন বার পরাজয়ের পর এবার সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের সমর্থন নিয়ে জয় পেল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মো. কাউসার।

এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহর সমর্থন নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন হাফেজ কাউসার। এর পরে ২০১৪ সালে স্থানীয়       সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের প্রচলন হলে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। এই দুই নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহর সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন।

মোট ২২টি কেন্দ্রের মধ্যে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকায় বেসরকারিভাবে ঘোষিত ২১টি কেন্দ্রের ফলাফলের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ মো. কাউসার পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী ওবায়দুল বারী দিপু ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০১ ভোট। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে এই উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ২২টি, সিল দেওয়া ব্যালট পাওয়ায় একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯৪৩ জন।

গত বছর ২৩ অক্টোবর এই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মুসার মৃত্যুর কারণে উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে যায়। গত ২৯ মার্চ এ  উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল ১০ অক্টোবর সেই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন।

ঐ নির্বাচনের আগে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ও নিজের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউসার হোসেনের নাম ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ।

কিন্তু গত ২৫ সেপ্টেম্বর নৌকা প্রতীকের রেপ্লিকা ও ফুলের তোড়া এমপি নিক্সনের হাতে তুলে দিয়ে নিক্সনের সঙ্গে যোগ দেন কাউসার। সে সময় কাউসার বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চর ভদ্রাসন—এই তিন উপজেলার মানুষের চোখের মণি এমপি নিক্সন চৌধুরী। আমি তিন বার পরাজিত হয়েছি, এবার এমপি নিক্সন চৌধুরী সমর্থন না দিলে আবারও পরাজিত হব, পরাজিত হবে নৌকা। এমপি নিক্সন আওয়ামী পরিবারের সন্তান, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র। তাই আমি তার হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়ে তার সমর্থন নিতে এসেছি।

এমপি নিক্সন চৌধুরীও তাকে সমর্থন জানিয়ে তার সব নেতাকর্মীকে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বিজয়ী হওয়ার পরে হাফেজ মো. কাউসার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই জয় আমার নয়, এই জয় এমপি নিক্সন চৌধুরীর, এই জয় জননেত্রী শেখ হাসিনার।