সিলেটে অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স হচ্ছে

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫১

সিলেটে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করবে সিটি করপোরেশন। গতকাল শনিবার নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর সামাজিক নিরাপত্তা মজবুত ও টেকসইকরণে ‘আমাদের করণীয়’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সুধীজনদের পরামর্শে আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—নগরভবনে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে নাগরিক কমিটি গঠন ও নিয়মিত পরামর্শ সভা             করা। এদিকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণসহ দেশব্যাপী নানা অপকর্মের হোতা ও তাদের গডফাদারদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন অব্যাহত রয়েছে।

নগর ভবনের সভায় ধর্ষণ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। অপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ পরিস্থিতিতে মহানগরীর সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এ কারণে সিলেটের সব সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সিলেট সিটি করপোরেশন মহানগরীর সামাজিক নিরাপত্তা টেকসইকরণে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করবে। নগর ভবনে খোলা হবে একটি অভিযোগ কেন্দ্র। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাত্ক্ষণিক অভিযোগ করতে পারবেন এবং সিসিক আইনি সহায়তা দেবে। এছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি হবে।

বিক্ষোভ-মানববন্ধন : ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।  ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সুজনের সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদাসহ অন্যরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত দাবিনামা তুলে ধরেন শাবিপ্রবির সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম। সুজনের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—ভিকটিমকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি হতে বের হতে হবে, নারীবান্ধব বিচারিক প্রক্রিয়া চালু, ধর্ষণ আইনের সংস্কার ও সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই সময় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সিলেটের নাগরিকবৃন্দের পক্ষে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দুই তরুণের পদযাত্রা :সিলেটসহ সারা দেশে ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আরিফ সোহেল ও কাজী মেহেদী হাসান নামের দুই তরুণ পদযাত্রার মাধ্যমে ঢাকা থেকে সিলেটে আসেন গতকাল। পরে তারা সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন।  ঢাকা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেন এই দুই শিক্ষার্থী।