মা ও ছেলের পরিকল্পনায় রাজধানীর হাজারীবাগে এক বাবাকে খুন করা হয়। মা শিল্পী বেগমের নির্দেশে কলেজপড়ুয়া ছেলে সিজান মাহমুদ ছয়টি ঘুমের ওষুধ কিনে আনেন। শিল্পী বেগম ঘুমের ওষুধ শরবতের সঙ্গে মিশিয়ে তার স্বামী সোহেলকে খেতে দেন। শরবত পান করার পর সোহেল ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর শিল্পী বেগম তার ছেলেকে ফোন করে বাসায় ডেকে আনেন। মিজান তার বন্ধু ফাহিমকে নিয়ে তাদের ভাড়া বাসায় চলে আসেন। সিজান তার মাকে ব্যাগ গুছিয়ে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। মায়ের চলে যাওয়ার পর মিজান তার বন্ধুকে নিয়ে হত্যা মিশনে নেমে পড়েন। ফাহিম বালিশ দিয়ে ঘুমন্ত সোহেলের মুখ চেপে ধরেন। আর মিজান চাকু গলার মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। মিনিট খানেকের মধ্যে হত্যার কাজ শেষ করে সিজান ও ফাহিম দরজায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। তিন দিন পর ঐ বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মা ও ছেলের পরিকল্পনায় বাবা খুনের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর হাজারীবাগের মধ্য বছিলার ৬৫/১ নম্বর বাড়ির নিচতলায়। লাশ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঐ বাসা থেকে সোহেলের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। তার পিতার নাম মমতাজ উদ্দিন হাওলাদার। মায়ের নাম বক্ষুল বেগম। বর্তমান ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ সদর কাশিপুর। হত্যার ঘটনার কয়েক দিন পর পুলিশ আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাগেরহাট থেকে তার ছেলে সিজান মাহমুদ ও ছেলের বন্ধু ফাহিমকে সাভার থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত তিন জনই হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ হিল কাফী বলেন, জবানবন্দিতে শিল্পী বেগম জানিয়েছেন সোহেল তার তৃতীয় স্বামী। আর সিজান মাহমুদ তার দ্বিতীয় স্বামী সেকেন্দার শেখ সাগরের সন্তান। সোহেল মানুষের কাছে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য বলে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নিতেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে ছেলে সিজানকে চাকরি দেবেন বলে সোহেল তাকে জানান। এজন্য তিনি বাগেরহাটে তার দ্বিতীয় স্বামীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা এনে সোহেলকে দেন। কিন্তু বেশ কয়েক মাস চলে গেলেও চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চান। এটা নিয়ে সোহেল প্রায়ই মারধর করতেন। এক পর্যায়ে মা ছেলে মিলে সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
এদিকে সোহেল সম্পর্কে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে লোকজনকে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
