জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর কিরগিজস্তানে নতুন সংঘর্ষ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৫৮

রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারির পরও কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার পালটাপালটি বিক্ষোভের সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আটামবায়েভের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। খবর বিবিসির

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ কিরগিজস্তানে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে দিয়েছে কিরগিজস্তানের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ। নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রাতভর দফায় দফায় পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়া ছাড়াও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়।

নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল বাতিল ঘোষণার পর মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী কুবাতবেক বরোনভ পদত্যাগ করেছেন। ঐ দিনই বিক্ষোভকারীরা কারাগার থেকে বিরোধী দলীয় নেতা সাদির ঝাপারভক ছাড়িয়ে নেয়। মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট সরোনবে জিনবেকভ জরুরি অবস্থা জারি করেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা থেকে তা কার্যকর হয়েছে এবং ২১ অক্টোবর পর্যন্ত জারি থাকবে। এ ছাড়া কারফিউ ও কঠোর সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে রাজধানীতে কারা আসবেন ও বের হবেন তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

প্রেসিডেন্টের এই আদেশের ফলে বিশকেকে নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন, সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবে সেনাবাহিনী। শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে চাওয়া নেতাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে কুবাটবেক বরোনভ পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে একমত হতে পারছেন না। প্রতিটি গোষ্ঠীই চায় তাদের নেতা ক্ষমতা গ্রহণ করুক।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জিনবেকব জানান, এমপিরা যখন বৈধ মন্ত্রিসভা গঠন করবেন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে তখন তিনি পদত্যাগ করবেন। এমপিদের একাংশ সাবেক এমপি সাদির জাপারভকে সমর্থন করছেন। ৩৫ জন এমপি তাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে বিরোধীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন প্রক্রিয়া সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুন: চায়না ভাইরাস নির্মূল করবে আমেরিকানরা: করোনা নিয়ে প্রথম সমাবেশে ট্রাম্প

সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আটামবায়েবকেও কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়েছে। তাকে সমর্থন করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওমুরবেক বাবানভর সমর্থকরা। শুক্রবার চারটি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাবানভকে মনোনীত করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরআই