‘বড় ভাইদের’ টাকার নেশাসহ নানা অপকর্মের জালে ঢুকছে এরাই

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৫

সিলেটের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। এরা বিভিন্ন স্থানে নিরাপদে অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে মাদকের নেশায়। আর ধীরে ধীরে এরাই ‘বড় ভাইদের’ টাকা, নেশা, দখল বাণিজ্য, ছিনতাই, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের জালে ঢুকে পড়ছে। তারা আদর্শের ধার ধারে না। তারা ‘বড় ভাইর’ নামে দাপটে চলে।

একাধিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর টিলাগড়, ইকোপার্ক, আলুরতল, মেজর টিলা, বাইপাস, শিবগঞ্জ, বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, সুবিদবাজার, হাজীপাড়া, তালতলাসহ বিভিন্ন স্থান পরিণত হয়েছে ‘ক্রাইম জোনে’। এরা সিনেমার ভিলেনের মতো মোটরসাইকেল, গাড়ি হাঁকিয়ে চলাফেরা করে। টিলাগড়, বালুচর, আলুরতল, ইকোপার্ক এলাকায় কত যে অপকর্মের শিকার হয়েছেন, কত নর-নারী তার হিসাব নেই, এমন মন্তব্য করে এলাকাবাসী বলেছেন, সন্ধ্যায় ঐ সব এলাকার রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান তারাই মাতিয়ে রাখে।

এলাকাবাসী নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ‘বুবা’ দর্শক। তাদের অনেকেই বলেছেন, আমরা অনেক কিছু দেখেও দেখি না। কারণ, কোনো প্রতিকার হয় না। উলটো বিপদ আসে। অন্যদিকে সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এমনকি নিজ বাড়িতে পর্যন্ত শিশু-কিশোর, তরুণী, গৃহবধূ, সন্তানের জননী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। অহরহ ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে।

সিলেটে বলাত্কার, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ আগে থেকেই। কিন্তু অপরাধ প্রকাশ হতো না। ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার পর থেকে ১২ দিনে সিলেট বিভাগে ছয়টি ধর্ষণ ও একটি বলাত্কারের ঘটনা ঘটে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় একের পর এক ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অভিযুক্তরা সরকার দলের নেতাকর্মী বা নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট।

গণধর্ষণের প্রতিবাদে মাসব্যাপী কর্মসূচি : ৬ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণসচেতনতার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ। ১১-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের আইন প্রণয়নের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, ১৬-২০ অক্টোবর পর্যন্ত ওলামা ও সুধীদের নিয়ে বৈঠক এবং ২১-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাপক মতবিনিময় ও বৃহত্ আন্দোলন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ