আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ শিকার নিষেধ করা হলেও ইলিশের এই প্রজননের সময় বসে নেই সিরাজগঞ্জের চৌহারী-এনায়েতপুরের মাছ শিকারীরা। অন্য বছরের চেয়ে এবার তার রেকর্ড পরিমাণ নতুন কারেন্ট জাল ও নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই দুটি থানার পুলিশ কৌশলে জেলেদের মাছ ধরার সুবিধা বাগিয়ে দিতে তৎপর রয়েছে। উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে এক হাজার ৩৩ জন হলেও মাছ শিকারে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার জেলে।
সরজমিনে, উপজেলার বেতিল, চাঁনপুর, জালালপুর ও স্থলচর, ঘোরজান ও খাসকাউলিয়া আজিমুদ্দি মোড় এলাকা ও সলিমাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে উন্মুক্তভাবেই জেলেরা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত সময় পাড় করছের। সংবাদকর্মীদের দেখে অধিকাংশ জেলেরা পালিয়ে গেলেও ইলিশ ধরা অবৈধ ক্যারেন্ট জাল তৈরির সময় দেখা মেলে খাসকাউলিয়া আজিমুদ্দি মোড় এলাকার কয়েকজন অভাবী জেলেদের। তখন জেলে শামীম হোসেন, আখতার আলী ও হায়দার হোসেন জানান, মাছ ধরেই তাদের জীবিকা। তবে সাড়া বছর তেমন ইলিশ পাওয়া যায়না। নিষেধাজ্ঞার মৌসুমেই মেলে প্রচুর ইলিশ। তাই অভাবের সংসার চালাতেই জাল তৈরি করছি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, নিজেদের পেটের কথা চিন্তা করে প্রশাসনের ভয়-ডর উপেক্ষা করে আমরা সবাই মাছ ধরছি। তবে অন্য বছরের মতো মাছ ধরতে যাতে সমস্যা না হয় পুলিশ ও মৎস্য অফিসের কারো-কারো সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।
এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি রমজান আলী জানান, এবার অনেকেই গোপনে জাল তৈরি করেছে বলে শুনেছি। তবে সবাইকে মিটিং করে মাছ না ধরার জন্য অনুরোধ করেছি। না শুনলে আমি নিজেও অভিযানে শরীক হয়ে অসাধু জেলেদের ধরে দেবো। তবে আমাদের বেকার জেলেদের যে প্রনদনা দেওয়া হচ্ছে তা একেবারেই অপ্রতুল। আবার নিবন্ধিত ও অনিবদ্ধিত জেলেরাও পাচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান ও চৌহালীর অফিসার ইনচার্জ মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, আমরা এবার অসাধু জেলেদের কোনোভাবেই ইলিশ শিকার করতে দেবোনা। জাল নৌকা দেখলেই ধরা হবে।
ইলিশ রক্ষায় গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আফসানা ইয়াসমিন জানান, আমরা দুই সপ্তাহ আগে থেকেই মা ইলিশ ধরা বন্ধে জেলে ও সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে আসছি। আসা করছি আমরা এবার সফল হবো। অসাধু জেলেদের অপতৎপরতা অবশ্যই রুখে দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি
