রেমিট্যান্সের টাকা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার পরামর্শ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

উত্সাহ দিয়ে রেমিট্যান্সের টাকা পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। গতকাল রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, সব জায়গাতে আমাদের রেমিট্যান্সের ছোঁয়া চলে এসেছে। রেমিট্যান্সের যে টাকা দেশে আসছে তার সবগুলো কিন্তু খরচ হয় না। ব্যাংকিং সিস্টেমে অনেক লিকুইড ক্যাশ আছে। এই রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছেন তাদের উত্সাহ দিয়ে আপনাদের বাজারে নিয়ে আসতে পারেন।

তিনি বলেন, বিদেশে যেখানে বাংলাদেশি ভাইবোনেরা আছেন, সেখানে আপনাদের ডিজিটাল আউটলেট ওপেন করেন। আপনাদের ডিজিটাল আউটলেট ওপেন করার জন্য যাবতীয় অনুমতি বা সহায়তা যতটুকু আমাদের পক্ষে সম্ভব সবটুকু আমরা করব। আপনারা নিট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি ভাইবোনদের টাকা আনার ব্যবস্থা করেন। এর মাধ্যমে আপনারা হবেন সমৃদ্ধ এবং দেশও হবে সমৃদ্ধ।

এ সময় বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যদি একটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর অর্থনৈতিক অবস্থা দিতে পারি, এই বাজারে টাকার কোনো অভাব হবে না।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম জানান, আগে ব্রোকারেজ হাউসগুলো দৈনিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ লেনদেন করতে পারত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এটাকে ৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার ব্যবস্থা করেছি। আমরা এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেয়ে গেছি। সুতরাং আপনারা নগদ লেনদেন এখন ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত করতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা গত কয়েক দিন ধরে সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন কিছুটা কম দেখতে পাচ্ছি। তবে আমরা মনে করি, যেহেতু প্রাইমারি মার্কেট একটু মুভমেন্ট হচ্ছে এবং আমাদের বেশকিছু জমে থাকা আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সে কারণে হয়তো প্রাইমারি মার্কেটে অ্যাক্টিভিটি একটু বেড়ে গেছে। সে কারণে হয়তো কিছুদিন এ রকম হতে পারে। তারপরও সেকেন্ডারি মার্কেট যাতে ভাইব্রেন্ট থাকে, সে জন্য আপনাদের স্বার্থেই সব দিকে খেয়াল রাখবেন।

ডিবিএর সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন, ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান এবং বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে ‘ব্রোকার হাউজের সেবাসমূহ ও বিনিয়োগকারীর অধিকার’ বিষয়ে কি-নোট উপস্থাপন করেন ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও।

বিএসইসির কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন বলেন, কনসোলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (সিসিবিএ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই সিসিবিএ ব্যবহার করেন তাদেরকে আমরা অনেক সময় যথাযথভাবে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখি না। এই সিসিবিএর বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিএসইসি বাধ্য হয় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমি দেখেছি অতীতে আমাদের পুঁজিবাজার অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির অনেক উন্নতি হয়েছে। গত দেড় দশকে আমাদের অর্থনীতি উন্নতি করে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজার পিছিয়ে রয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, একটি কোম্পানি কীভাবে তার ব্যবসাকে নিয়ে যাচ্ছে। একটি অর্থবছরে কীভাবে তারা প্রফিট করেছে বা লোকসানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা জানার অধিকার বিনিয়োগকারীদের আছে। কিন্তু আমরা দেখছি অনেক কোম্পানি যারা নিয়মিত তথ্যই প্রকাশ করে না। প্রাইস সেনসিটিভ তথ্য তো দূরের কথা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভাও করে না। নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে না। অথচ সে সব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আমরা অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের উত্সাহ দেখতে পাই। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, অধিকার লঙ্ঘিত হয়।