চিরকালের জন্য প্রস্থান করা। জন্মের মতো যাওয়া।
অগস্ত্য যাত্রা কথাটি বাংলাভাষা থেকে এখনো অগস্ত্য যাত্রা করেনি। আমাদের মুখের ভাষায় এই বাক্যভঙ্গিটির ব্যবহার আর নেই বললেই হয়, তবে লেখার ভাষায় আছে। অনেক লেখক-সাংবাদিক এখনো এটিকে শ্লেষাত্মক বাক্যভঙ্গি হিসেবে প্রায়শ ব্যবহার করেন।
অগস্ত্য যাত্রা কথাটি এসেছে ভারতীয় পুরাণের একটি কাহিনি থেকে। এই কাহিনির মধ্যে আছেন অগস্ত্য মুনি, তার শিষ্য বিন্ধ্য পর্বত এবং সূর্যদেব।
সূর্যদেব তাঁর যাত্রাপথে উদয়াস্তকালে নিত্য সুমেরু পর্বতকে প্রদক্ষিণ করেন। একদিন বিন্ধ্য পর্বতের বাসনা হলো সূর্যদেব তাঁকেও ঐভাবে প্রদক্ষিণ করুক। সূর্য তাতে কর্ণপাত করলেন না।
সূর্যের আচরণে বিন্ধ্য পর্বত অতিশয় ক্রুদ্ধ হলেন এবং স্বীয় দেহ বর্ধিত করতে করতে সূর্যের গতিপথ আটকে ফেললেন। দেবতা, মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা সবই পড়ল বিপাকে।
বিন্ধ্যের এই সর্বনাশা কাণ্ডে ভীত হয়ে দেবতারা বিন্ধ্যগুরু অগস্ত্য মুনির শরণাপন্ন হলেন। অগস্ত্য প্রিয়শিষ্য বিন্ধ্যের নিকট উপস্থিত হলে বিন্ধ্য মাথা নত করে তাঁকে প্রণাম করলেন। অগস্ত্য বললেন, আমি যতক্ষণ ফিরে না আসি ততক্ষণ তুমি যে অবস্থায় আছ সেভাবেই থাকো।
পুলকিত অগস্ত্য, ভক্ত শিষ্য বিন্ধ্যকে ঐ অবস্থায় রেখে দক্ষিণাপথের দিকে যাত্রা করলেন এবং সেই যে গেলেন আর কোনো দিনই ফিরলেন না। অগস্ত্য মুনির এই মহাযাত্রাই কালক্রমে অগস্ত্য যাত্রা বাক্যভঙ্গির রূপ নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করে।
সূত্র : বাংলা শব্দের উত্স অভিধান/ফরহাদ খান
