ভাসমান দোকান
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
সাগর মোহনায় ভেসে চলছে এক দোকান। ভেসে ভেসেই চলে দোকানের বেচাকেনা। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই জমে বেশি। কারণ রসদ ফুরলেই ভিড় জমায় সাগরের মাছ শিকারি জেলেরা। তারাই এ দোকানের প্রধান ক্রেতা। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করে সোনারচর ও কলাগাছিয়াচরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাগর মোহনায় গেলে এই দোকানের দেখা মিলবে। তবে দূর থেকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কাছে গিয়ে ট্রলারের ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে দোকানের মালামাল। রয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, শুকনো খাবার থেকে শুরু করে গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই। আছে খাবার স্যালাইন এবং জরুরি ওষুধপত্রও।
সম্প্রতি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে সোনারচর যাওয়ার পথেই এ প্রতিবেদকের চোখে পড়ে ভাসমান দোকানটি। এ সময় দেখা যায়, দুই তিনটি ট্রলার নোঙর করে প্রয়োজনীয় রসদ কিনছে ভাসমান দোকান থেকে। এরমধ্যে দুইটি ট্রলার জেলেদের, আর একটি পর্যটকবাহী। সাগরে মাছ শিকারি জেলেরা জানায়, প্রায় দুই বছর ধরে সমুদ্র মোহনায় ভাসমান দোকানটি চলছে। কথা হয় সাগরের জেলে শাহবুদ্দিন মোল্লার (৪০) সঙ্গে। তাদের ট্রলারের রসদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ভাসমান দোকানে এসেছেন তিনি। সোনারচর ঘুরতে আসা পর্যটক হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘ট্রলারের তেল ও খাবার শেষ হওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা। জেলেদের কাছে সহযোগিতা চাইলে তাদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ভাসমান এই দোকানের খবর।’ ভাসমান এই দোকানের উদ্যোক্তা জিয়া ফরাজী বলেন, ‘প্রথমে আমার জেলেদের জন্য ছোট্ট পরিসরে কাজটি শুরু করি। পরে চাহিদা বাড়লে সকল জেলেদের জন্য একটি স্টিলবডির ট্রলারে দোকানটি চালু করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দোকানের মালামাল শেষ হয়ে গেলে চরমোন্তাজ স্লুইস বাজারে ট্রলার নিয়ে গিয়ে মালামাল আনি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিয়া ফরাজী ছাড়াও এক বছর ধরে আরো একটি ভাসমান দোকান সেখানে চলছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টারের (ভার্ক) উপজেলা সমন্বয়কারী মোহসীন তালুকদার বলেন, ‘এটি বিকল্প একটি কর্মসংস্থান। আমি মনে করি, এ অঞ্চলের মানুষদের জন্য এটিও একটি সম্ভাবনার হাতছানি।’ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, ‘ভাসমান দোকানের উদ্যোগটির কথা আপনার মাধ্যমে শুনে ভালো লাগল। দোকানটি দেখতে আমি সেখানে যাব।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘ভাসমান দোকানের উদ্যোগটি ব্যতিক্রম। ঐ উদ্যোক্তাকে সাধুবাদ জানাই।’
