ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ ঘিওরে বন্যায় তলিয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এর ফলে বন্যায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ঘিওর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫৯ কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে আধাপাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি কমতে শুরু করলেও তা এখনো পুরোপুরি নামেনি। যেসব স্থানে পানি নেমে গেছে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি বছরে দু-দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার প্রধান সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বানিয়াজুড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে জাবরা বাজার, উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে ঘিওর বাসস্ট্যান্ড, ঘিওর বাসস্ট্যান্ড থেকে বড়টিয়া বাজার, ঘিওর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে কুস্তা, নারচী ভাঙ্গা পর্যন্ত। নালী ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো রাস্তাই ভেঙে গেছে। এসব এলাকার সঙ্গে উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে লাখ লাখ মানুষকে।
এবারের ভয়াবহ বন্যায় জেলা শহরের সঙ্গে ঘিওর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যা এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষকেও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
ঘিওর সদর ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম টুটুল বলেন, আমার ইউনিয়নের পাকা, আধাপাকা সড়ক পানিতে ডুবে গিয়েছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর সেসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন সেখানে যানবাহন তো দূরের কথা হাঁটাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় সব সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। পানি কমতে শুরু করলেও এখনো অধিকাংশ মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে নৌকা।
ঘিওর উপজেলা পরিষদের এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান জানান, চলতি বছরে দু-দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার প্রধান সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাত ইউনিয়নের ৫৯ কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে যাতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন?্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
