ফের আলোচনায় না’গঞ্জের কিশোর গ্যাং

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৬

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে নারায়ণগঞ্জে কিশোর অপরাধের বিষয়টি। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফতুল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নাঈম নামের এক কিশোর নিহত হয় এবং আহত হয় অনেকে। অপর এক ঘটনায় ফতুল্লায় চাঁদমারী এলাকায় মুক্তিপণের দাবিতে এক কিশোরকে অপহরণের ঘটনায় অপহরণকারী কিশোর গ্যাংয়ের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। এদিকে কিছুদিন পরপর কিশোর গ্যাংদের হাতে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন নারায়ণগঞ্জবাসী। কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধ কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য জেলা পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করছে তারা।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ফতুল্লার ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নাঈম নামের এক যুবক নিহত হয়। এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানান, ছুরিকাঘাতে নিহত নাইম ও হত্যাকারীরা সকলেই গার্মেন্টস শ্রমিক। ঘটনার সময় তাদের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় নাইমকে। পুলিশ গিয়ে হূদয় ও হাবিব নামক দুই জনকে গ্রেফতার করে। সংঘর্ষের প্রকৃৃত কারণ জানতে ও জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান। এদিকে একই দিন ফতুল্লার চাঁদমারী সেকশন মাঠ এলাকায় মুক্তিপণের দাবিতে যুবক অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার কিশোর গ্যাং গ্রুপের ১১ সদস্যের ব্যাপারে র্যাব-১১ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে,  তারা দীর্ঘদিন যাবত্ রাস্তাঘাটে পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে সংঘাত সৃষ্টি ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। এছাড়া ঐ এলাকায় কোনো অপরিচিত লোক আসলে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, কিশোর অপরাধী নির্মূলে তারা সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। তবে নিজের সন্তানদের ওপর নজর রাখার জন্য অভিভাবকদেরও আহ্বান জানান তিনি।