ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
পৌরসদরের গজারিয়ায় রবিবার বিকালে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশু, নারীসহ শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় ৫০টির বেশি বসতঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিপেটা করে গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ছয় গ্রামবাসীকে আটক এবং গ্রাম জুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় পৌর কাউন্সিলর বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজনের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে পরদিন সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেসময় বেশ কয়েক জন আহত হয়। এ ঘটনায় রাজ্জাক ফকিরের পক্ষ থেকে বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। গতকাল রবিবার বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজন ফরিদপুর আদালত থেকে জামিনে এসে দেশি অস্ত্র নিয়ে রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের বসতভিটার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের অর্ধশত বসতঘরে হামলা, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর লুটপাট এবং স্বর্ণ, নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্জাক ফকিরের লোকজনের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।
রাজ্জাক ফকিরের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম জানান, আদিম যুুগের মানুষের মতো বর্বর আচরণ করেছে বাচ্চু মাতুব্বরের লোকজন। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাধা দেয়নি।
অন্যদিকে বাচ্চু মাতুব্বরে জানান, আমার লোকজন জামিন নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাজ্জাক ফকিরের লোকজন খারাপ কথা বলায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আমার পক্ষের ৮/১০ জন আহত হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
