রাজধানীতে বিয়ে ও কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কুমিল্লার লাকসামে পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণ করেছে এক কিশোর! এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানে আরো চার নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় মামলার পর আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশালে যুবককে বলাত্কারের অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক রিপোর্টার জানান, রাজধানীর সবুজবাগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তরুণীর কথিত প্রেমিক সবুজ মিয়া ও তার সহযোগী আব্দুস সামাদকে গত শনিবার রাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সবুজবাগ থানার এসআই রিয়াজ উদ্দিন সরকার জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে সবুজ মিয়ার সঙ্গে ঐ তরুণীর সাত মাস আগে পরিচয় হয়। বিয়ের কথা বলে সবুজ তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। সহযোগিতা করেছেন সামাদ। তাদের বিরুদ্ধে শনিবার ঐ তরুণী সবুজবাগ থানায় মামলা করেন।
এদিকে বেশি বেতনে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিছু দিন আগে শ্যামলীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করেছেন মো. সেলিম (৩৪) নামের এক যুবক। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরবর্তী সময়ে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরে একাধিকবার ধর্ষণ ও টাকা দাবি করে সে। মেয়েটির অভিযোগের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে সেলিমকে র্যাব-২ গ্রেফতার করে। তার বাবার নাম মো. জামাল, গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের দুর্গাপুরে।
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, পৌরসভার ডুরিয়া বিষ্ণুপুর গ্রামে ছয় বছর বয়সি এক শিশুকে পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন বাড়ির বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার এ ঘটনায় ঐ শিশুর মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত কিশোরের নাম তৌহিদুর রহমান রাহিম (১২)। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল অফিস জানায়, হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বাউশিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার থানায় গিয়ে ঐ ছাত্রী ধর্ষণ মামলা করলে এলাকার বাহেরচর মাদ্রাসার দাখিলের ছাত্র মো. ইসমাইল হোসেন ঢালীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ অসীম কুমার সিকদার জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বরিশালে এক যুবককে বলাত্কারের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সামসুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ঐ যুবক কোতোয়ালি মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন। গতকাল শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং গ্রেফতারকৃত আইনজীবীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হতে পারে বলে দাবি করে আইনজীবী সমিতির সভাপতি আফজালুল করিম বলেছেন, ‘যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় তাহলে এটি নিন্দনীয়।’
স্টাফ রিপোর্টার রংপুর জানান, বদরগঞ্জের বালুয়াভাটা এলাকায় মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার রায়হান হক (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রায়হান হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বখুরা বিহারী মোড় এলাকা থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৩) অপহরণ করে গাজীপুরে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় লিমন নামের এক বখাটেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পাশের আঠারদানা গ্রামে নানাবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সময় ঐ মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। গতকাল রবিবার ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার ও বখাটেকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে কয়েক মাস আগে উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে সাদেক হাসান নামের এক ব্যক্তি এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে বেশ কয়েক বার সালিশ দরবার করেন। এরই মধ্যে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। প্রভাবশালী মহলের চাপে ভুক্তভোগী পরিবার এতদিন মামলা করতে সাহস পায়নি। সারা দেশে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে সাহস পেয়ে তারা গতকাল রবিবার গফরগাঁও থানায় মামলা করলে পুলিশ সাদেক হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যম জেলহাজতে পাঠায়।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, দীর্ঘ চার মাস পর দলবেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি হান্নানকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত শনিবার রাতে কর্ণফুলীর কলেজবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ৭ জুন পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও বড়ুয়াপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে চার যুবক মিলে ধর্ষণ করে। ১৫ জুন পটিয়া থানায় এনিয়ে মামলা হয়। মামলার অন্য আসামিরা গ্রেফতার হলেও হান্নান এতদিন পলাতক ছিলেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথপুরে স্বামী পরিত্যক্তাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও তার বাবাকে মারপিটের মামলায় গ্রেফতারকৃত ছয় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রবিবার দুপুরে জগন্নাথপুর জোনের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে রিমান্ডের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলার প্রধান আসামি শামীম আহমদের সাত দিনের, লিটন মিয়া, আক্কাই মিয়া, দিলাক মিয়া, কাজল মিয়া ও আলম হোসেনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৫ অক্টোবর রাতে গোতগাঁও গ্রামে এ ধর্ষণ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরের দিন জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ঐ নারী।
