বরিশালের বাকেরগঞ্জে চার নাবালক শিশুর বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঐ চার শিশু এবং তাদের পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে বাকেরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শিশু ও তাদের অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের পর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। এছাড়া চার শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা এবং গ্রেফতারের পর এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল কি না—সে বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
এর আগে গতকাল সকালে বাকেরগঞ্জ থেকে হাইকোর্টে হাজির হন চার শিশু ও তাদের অভিভাবক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহ, বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম, বরিশালের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ ও বাকেরগঞ্জ থানার শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই বশির উদ্দিন খান। প্রথমে খাস কামরায় চার শিশুর বক্তব্য গ্রহণ করে আদালত। পরে আদালত কক্ষে শিশুদের অভিভাবক, ম্যাজিস্ট্রেট, ওসি ও প্রবেশন কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় আইন অনুযায়ী যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ভর্ত্সনা করে হাইকোর্ট। তখন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েতউল্লাহ হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।
প্রসঙ্গত গত ৪ অক্টোবর ছয় বছরের প্রতিবেশী মেয়ে শিশুর সঙ্গে বাড়ির পাশের বাগানে খেলছিল ঐ চার শিশু। তাদের আসামি করে মঙ্গলবার বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা করে ঐ মেয়ে শিশুর বাবা। পরে ঐ চার শিশুকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ। বুধবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাকেরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক এনায়েতউল্লাহ তাদের জামিন নামঞ্জুর করে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। এ বিষয়ে সময় টিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাতেই শিশুদের জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করতে বরিশালের শিশু আদালতের বিচারককে নির্দেশ দেন। এর পরই রাত ১০টায় বরিশালের শিশু আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে। পরে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
