আবরারকে মৃত ঘোষণার পর ১০/১৫ জন ছাত্র দ্রুত স্থান ত্যাগ করে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০০:২৪

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন ডা. মো. মাসুক এলাহী। সাক্ষ্যে ঐ চিকিত্সক বলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর ভোর ৮টা থেকে ৭ অক্টোবর ভোর ৮টা পর্যন্ত বুয়েটের মেডিক্যাল সেন্টারের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন  করেছিলাম। ৬ অক্টোবর রাত ২টা ৪৭ মিনিটে আমার কাছে এক জন ছাত্র পরিচয়ে ফোন করে বলে, এক জন ছাত্র অসুস্থ, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, দ্রুত শেরেবাংলা হলে আসুন। আমি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার কালামকে সঙ্গে নিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ঐ হলের সামনে যাই। সেখানে যাওয়ার পর ১০-১৫ জন ছাত্র অ?্যাম্বুলেন্স ঘিরে ধরে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সেস্ট্রচার আনতে বলে। আমি বলি, আগে রোগী দেখি, এরপর যা করণীয় তা করব। ছাত্ররা আমাকে উত্তর ব্লকের সিঁড়ির কাছে নিয়ে যায়। একতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে ট্রাউজার ও ফুল হাতা শার্ট পরিহিত আবরারকে তোষকের ওপর শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। তোষক ও ট্রাউজার প্রস্রাবে ভেজা ছিল। আমি পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করি। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান গতকাল রবিবার এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

জবানবন্দিতে ডা. মাশুক এলাহী বলেন, মৃত ঘোষণার পর আমার পাশে দাঁড়ানো ১০-১৫ জন ছাত্র দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর রাসেল নামের এক ছাত্র আসে। সে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেয়। সে বলে, আবরার মারা যায়নি। সে ঘুমাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেও আমরা তার (আবরার) সঙ্গে কথা বলেছি। আপনি ওকে বুয়েট মেডিক্যালে বা ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যান। আমি বলি, নিয়ে লাভ নেই, সে মারা গেছে। এরপর আমি বুয়েটের প্রভোস্ট ড. জাফর ইকবাল স্যারকে ফোন দিয়ে ঘটনা জানাই। তিনিসহ ডিএসডব্লিউ স্যার ও সহকারী প্রভোস্ট স্যার আসেন। এরপর বুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার আজাদ এসে পুলিশকে ফোন দেন। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে আমার স্বাক্ষর নেয়। বুয়েটের যে অ?্যাম্বুলেন্স ও স্ট্রেচারে আবরারের লাশ ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয় সেই অ্যাম্বুলেন্স ও স্ট্রেচার জব্দ করে পুলিশ। সেই জব্দ তালিকায় আমি স্বাক্ষর করি। ডা. মাসুক এলাহীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মোট পাঁচ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করল ট্রাইব্যুনাল। ডা. মাসুক বুয়েটের আবাসিক চিকিত্সক।