স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩২

স্বামীর পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মূল ঘটনা আড়াল করতে একটি চক্রের যোগ সাজসে ঘাতক স্বামী মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ন্যায় বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে নিহতের পরিবার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের আটিয়া মামুদপুর পুর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৃহবধূর নাম মুন্নী আক্তার (২২)। তার বাবার নাম ফজলুল করিম, গ্রামের বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি হেরেন্দ্রপাড়া গ্রামে। গৃহবধূর স্বামীর নাম আব্দুর রশিদ (৩০), পিতার নাম নুর মোহাম্মদ, গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার আটিয়া মামুদপুর পুর্বপাড়া (ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন) গ্রামে। তাদের ঘরে এক বছরের শিশু সন্তান রয়েছে।

গৃহবধূ মুন্নীর বাবা ফজলুল করিম এবং তার ভাই মামলার বাদী সানোয়ার হোসেন অপু অভিযোগ করেন, রশিদের সঙ্গে একজনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। এলাকার তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। মুন্নী পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে স্বামীকে নানাভাবে বুঝিয়ে এ ঘটনা থেকে ফিরে আসতে বলে। এ নিয়ে রশিদ মাঝে মধ্যেই মুন্নীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের পর তাদের খবর দেওয়া হয় মুন্নী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা শোনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মুন্নীর স্বামীর বাড়িতে গেলে মেঝেতে লাশ পরে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর দাফনের ব্যবস্থা করেছেন। আশপাশের লোকজন ও মুন্নীর পরিবারের দাবী ঘাতক আব্দুর রশিদ দিনে দুপুরে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে মুন্নীর স্বামী ঘাতক আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগিরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হত্যার মূল রহস্যা আড়াল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী সানোয়ার হোসেন অপু অভিযোগ করেন, পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় ঘাতক আব্দুর রশিদ পরিকল্পিত ভাবে তার বোন মুন্নীকে হত্যা কওে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে তাকে গ্রফতার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বামীর পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক কলহ ছিল। তাদের ধারনা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধের কারনেই স্ত্রী ফাঁস দিয়ে আত্বহত্যা করতে পারে। মুল ঘটনার রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে। থানায় মামলা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ