নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য সুন্দরবন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৬

সংকটে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা

জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

করোনার প্রকোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কিছুদিন আগে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনসংলগ্ন সব ইকো টুরিজম সেন্টার ও হোটেল রিসোর্ট। তবে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় এখনো পর্যটকশূন্য সুন্দরবনের দর্শনীয় স্থানগুলো। ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি চরম আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে ট্রলার মালিক, ট্যুর অপারেটরসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সুন্দরবন পশ্চিম জোনের সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকার পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, মুন্সিগঞ্জ টহল ফাঁড়ি থেকে কলাগাছিয়া, দোবেকি ইকো টুরিজম কেন্দ্র পর্যন্ত নিয়মিত পাশ দেওয়া হতো। এছাড়া পর্যটন মৌসুমে হিরনপয়েন্ট, দুবলার চরসহ দূর যাত্রার ও রাত্রিকালীন অবস্থানের জন্য তিন থেকে সাত দিনের পাশ (বন বিভাগের অনুমতিপত্র) দেওয়া হতো। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সব ধরনের পর্যটক প্রবেশ ও নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পাঁচ মাস পর সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে জেলেদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এখন কর্মহীন, লাখ লাখ টাকায় তৈরি করা ট্রলারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফ্রেন্ডস ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল্স-এর পরিচালক তমজিদ মল্লিক জানান, প্রতিবছর সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ দিয়ে কয়েক লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। এই খাত থেকে সরকার বছরে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। করোনার প্রভাব কমায় দেশের অন্য অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হলেও এখনো সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমরা যারা এই সেক্টরে ব্যবসা করি আমাদের এখন পথে বসার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছি। সুন্দরবন সংলগ্ন বরসা রিসোর্টের ম্যানেজার মো. রাজু জানান, করোনার প্রভাবে গেল মার্চ মাস থেকে এ অঞ্চলের সব হোটেল, রিসোর্ট রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। গেল কোরবানি ঈদের পর থেকে আমাদের রিসোর্ট খোলার অনুমতি পেয়েছি কিন্তু কেউ আসছেন সুন্দরবন ভ্রমণে। সুন্দরবনে পর্যটক না আসায় আমাদের রিসোর্ট ফাঁকা পড়ে আছে। আগে এখানে ৪০ জন কর্মচারী ছিল বর্তমানে আছে মাত্র ১৫ জন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন জানান, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে শুধু মাছ ধরার জন্য জেলেদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি না পাওয়ায় পর্যটকদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। করোনা সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৭ আগস্ট থেকে সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনসংলগ্ন হোটেল রিসোর্ট রেস্টুরেন্টসহ পর্যটন এলাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। করোনা ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধে গত ১৯ মার্চ পুরো সুন্দরবনে পর্যটকদের যাতায়াত ও নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবন জুড়ে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার নির্দেশনা ছিল। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন বিভাগ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যা এখনো বলবত্ আছে।