তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগের ইএমও পদে নেই কোনো চিকিত্সক। অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না কনসালট্যান্টের অভাবে, নেই ডেন্টাল সার্জনও। এদিকে পুরোনো একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে কোনো মতে চলছে রোগী স্থানান্তর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল তালিকা সূত্রে জানা গেছে, এনেসথেসিয়া বিভাগের এক জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারি বিভাগের এক জন জুনিয়র কনসালট্যান্টসহ চিকিত্সক ও নার্সের ২৬ জনের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারীসহ অন্যান্য মিলে ১৪ জনের পদ শূন্য।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা আয়শা খাতুন, শিরিন পারভীন ও কদভানু জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন করা হলেও চিকিত্সক ও চিকিত্সার যন্ত্রপাতি কম থাকায় চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অধিকাংশ রোগী জেলা শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এতে তাদের মতো দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষদের শহরের ব্যয়বহুল চিকিত্সা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক মিজানুর রহমান জানান, জরুরি ও বহির্বিভাগ মিলে প্রতিদিন ২৫০/৩০০ রোগী হয়। জরুরি বিভাগে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার পদে চিকিত্সক না থাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ের মেডিক্যাল অফিসারকে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আর কনসালট্যান্ট চিকিত্সক না থাকায় সামান্য অপারেশনের রোগীও বিভিন্ন জেলা শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল মিয়া শোভন বলেন, তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। আরো ভালো করার জন্য জনবল ও চিকিত্সা সরঞ্জামের আবেদন করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
