জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) জালিয়াতি করে অবৈধভাবে ভোটার করার প্রচেষ্টার অভিযোগে লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলা ও সদর উপজেলার দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এরা হলেন—ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জুয়েল বাবু ও এস এম আজম শাহী। আইডিইএ প্রকল্পের কমিউনিকেশন কনসালটেন্ট (জুনি.) মো. শফিকুল ইসলাম সোমবার এ তথ্য জানান।
এনআইডি থেকে জানানো হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস আইডিইএ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার করায় ঐ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ অক্টোবর রবিবার রাতে ঐ দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আজাদুল হেলাল।
মামলার বিবরণে বলা হয়, লালমনিরহাট অফিসের কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. জুয়েল বাবু বিনা অনুমতিতে ছুটির দিনে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের আরেক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এস এম আজম শাহীর সঙ্গে যোগসাজশে অনিবাসী/ঠিকানাবিহীন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ভোটার করার চেষ্টা করে। গত ২০ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জুয়েল বাবু ও এস এম আজম শাহী ভোটারদের উপজেলা সার্ভার কক্ষে নিয়ে এসে ভোটার নিবন্ধন করাতে দেখতে পান উপজেলা সদর নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজাদুল হেলাল। এ সময় ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কাছে মোছা. আফরোজা বেগম, মো. মাসুম ও মো. সোহেল নামে তিনটি আবেদন ফরম দেখতে পান, পরে সার্ভার যাচাই করে অল্প সময় আগে নতুন ভোটার হওয়ার নিবন্ধন ডাটা পাওয়া যায়। আর্থিক প্রলোভনে পড়ে তারা গোপনে ভোটারদের ডেকে এনে নিবন্ধন করেছেন বলে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে স্বীকারও করেন।
