ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতা আটক, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪১

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের চার নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তারা। এর আগে সেখানে আয়োজিত এক সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের মতো একটা রাষ্ট্রে এমন নিষ্ঠুর কাজ কখনো কাম্য নয়। স্বাধীন দেশ বলা হলেও আমরা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন না। অবিলম্বে নেতাকর্মীদের আমাদের কাছে পৌঁছে দিন, এমন হীন কাজে মেতে উঠবেন না।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেনসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন দমানোর জন্যই সরকার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র অধিকারের নেতাকর্মী ছাড়াও গ্রেফতারকৃত পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রেসক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

গ্রেফতার দুই :ছাত্র অধিকার পরিষদ রবিবার তাদের চার নেতাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে। এর মধ্যে আছেন সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সোহরাব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ মাহমুদ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নাজমুল হুদা ও মো. সাইফুল হুদাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাদের দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত। তারা উভয়ই ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর করা মামলার আসামি।

গ্রেফতারের বিষয়ে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীর কোতোয়ালি ও লালাবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর করা ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুল ও নাজমুল। ঐ দুই মামলায় তাদের গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোনাল টিম।

একজনও বাদ থাকলে অনশন চলবে

ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে করা মামলায় দুই জন গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে সব আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘আজকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সেক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তবে ছয় আসামির প্রত্যেককে গ্রেফতার করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করব।’ নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম, ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিল। আজকে আবার গলায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এখন সুস্থ আছি।’