নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের অনুসারীর হাতে এবার হামলার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক ও এক মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা। এসময় হামলাকারীরা সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর করে ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হামলার শিকার নিউজ ২৪ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ এ ঘটনা সঙ্গে জড়িত ১১জনের বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় বেগমগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
সাংবাদিক আকবর হোসেন সোহাগ অভিযোগ করেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনিসহ আরো তিন সাংবাদিক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। সাংবাদিকরা সোহাগ মেম্বার সম্পর্কে বিভিন্ন লোকজন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মেম্বারের বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তার সহযোগী বাবুল মিয়া, মিঠু, জয়নাল, আজাদ, রাসেলসহ একদল যুবক তাদের মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। এ সময় তারা মাইক্রোবাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং নিউজ ২৪-এর ক্যামেরাম্যান মেহেদি হাসান ও চ্যানেল এস-এর জেলা প্রতিনিধি ইমাম উদ্দিন সুমনকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা একটি ক্যামেরা ও অন্য একটি ক্যামেরার মেমোরি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীদের বাধা দিতে এসে হেনস্তার শিকার হন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম জিএস।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জিএস জানান, ঘটনার সময় তিনি ওই গ্রামে ছিলেন। সাংবাদিকদেরকে ওপর হামলার ঘটনায় তিনি বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকেও নানাভাবে হেনস্তা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় নোয়াখালী প্রেস ক্লাবসহ জেলার কর্মরত সাংবাদিকগণ তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গত ৫ অক্টোবর গ্রেফতার করে ও পরদিন তাকে রিমান্ডে পুলিশ। তার দুই দিন রিমান্ড শেষে ৮ অক্টোবর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। নির্যাতনের শিকার ওই নারী কয়েক দিন পর সোহাগ মেম্বারকে ঘটনাটি জানিয়ে কারা এ ঘটনা করেছে তাদের নাম বললে তিনি চুপ থাকতে বলেছেন তা স্বীকার করেন আদালতে।
ইত্তেফাক/এমআর
