এসএসসি- ২০২১ বিধবা এবং ‘অভাগীর স্বর্গ’গল্পের কাঙালীর মা সধবা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৩৬

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র শিক্ষক

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

বিজিবি সদরদপ্তর, পিলখানা, ঢাকা।

বাংলা প্রথমপত্র:সৃজনশীল

 

অভাগীর স্বর্গ

 

১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

“কুসুম বিধবা হইয়াছে। শুনিলাম, তাহার স্বামী বিদেশে চাকরি করিত; দুই-একদিন ছাড়া স্বামীর সহিত সাক্ষাতই হয় নাই। পত্রযোগে বৈধব্যের সংবাদ পাইয়া, আট বত্সর বয়সে মাথার সিঁদুর মুছিয়া, গায়ের গহনা ফেলিয়া, আবার তাহার দেশে সেই গঙ্গার ধারে ফিরিয়া আসিয়াছে।”                                                            

গ. উদ্দীপকের কুসুমের সাথে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মায়ের অবস্থানগত বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।                                                  ৩

গ.উদ্দীপকের কুসুম বিধবা হলেও ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা তা না হওয়ায় তাদের মধ্যে অবস্থানগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগী কখনো স্বামীর সান্নিধ্য পায়নি। সে বিধবা ছিল না। কিন্তু তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামী পরিত্যক্তা রমণী হিসেবেই তাকে জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে। উদ্দীপকের কুসুম অভাগীর অবস্থানে না থাকায় তাদের মাঝে অবস্থানগত বৈসাদৃশ্য সহজেই বোঝা যায়। উদ্দীপকের কুসুম মাত্র আট বছর বয়সে বিধবা হয়েছে। সে গল্পের অভাগীর চেয়েও হতভাগ্য। বিদেশে চাকরিরত স্বামীর মৃত্যু সংবাদ পত্রযোগে পেয়েছিল উদ্দীপকের কুসুম। বৈধব্যের সংবাদ পেয়ে সিঁদুর মুছে, গহনা ফেলে সে ফিরে এসেছে গঙ্গার ধারে। আর ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা তথা অভাগী তার নামের সার্থকতা প্রমাণ করেছে। কেননা অভাগীর স্বামী তাকে ছেড়ে দ্বিতীয় বউ নিয়ে সংসার পেতেছে অন্য গ্রামে। আর এদিকে অভাগী নিরন্তর একাকী সংগ্রাম করেছে শিশুপুত্র কাঙালীকে নিয়ে। যে স্বামী একবারও তার দিকে ফিরে তাকায়নি সে স্বামীর পদধূলিই কাঙালীর মা কামনা করে তার মৃত্যুশয্যায়। সধবা হওয়ায় স্বামীর আশীর্বাদসমেত স্বর্গে আরোহণের জন্যই কাঙালীর মায়ের এমন বাসনা জেগেছে। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের কুসুম স্বামীর প্রয়াণে বিধবা এবং ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা সধবা। আর এখানেই তাদের অবস্থানগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ.এর উত্তর আগামী শনিবার