জাল সনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৫

সারা দেশে প্রায় ২৪ হাজার কম্পিউটার শিক্ষক আছেন। তাঁদের অধিকাংশ জাল সনদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকটি স্কুলে একজন কম্পিউটার শিক্ষক আবশ্যক ঘোষণা করার পরও সারা দেশে ৭৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষকের পদ শূন্য। কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের ২০১০ সালের নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, ৩ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পিউটার টেকনোলজি অথবা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার), সমাজসেবা অধিদপ্তর, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, যুব উন্নয়ন অধিদফতর—এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেটধারীদের এমপিওভুক্ত করা যাবে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, সরকারি অনুমোদন নয় এমন প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি করছেন বহু শিক্ষক। এখন পর্যন্ত শুধু কম্পিউটার শিক্ষকের জাল সনদ ধরা পড়েছে ৫৫০। এছাড়া নামমাত্র ছয় মাসের একটি কোর্স করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন এসব শিক্ষক। নিয়োগের পর তাঁরা কম্পিউটার চালু করতে পারেন না! অনেক কম্পিউটার শিক্ষক চাকরিতে আবেদনের সময় এক প্রতিষ্ঠান থেকে সনদপত্রের ফটোকপি নিয়েছেন, আবার এমপিওভুক্তির জন্য অন্য একটি সনদপত্রের ফটোকপি দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে আরেকটি সনদপত্রের ফটোকপি সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া যে প্রতিষ্ঠান থেকে সনদপত্র সংগ্রহ করেছেন যে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা চাকরির আবেদনের পরে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছে। এজন্য কম্পিউটার শিক্ষকদের সনদপত্রের মূল কপি, চাকরির রেজুলেশন বই, চাকরির মূল আবেদনপত্র, অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসে থাকা এমপিওভুক্তির আবেদনপত্র ও সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমস্ত নথি ফরেনসিক তদন্ত সাপেক্ষে সঠিকতা যাচাইপূর্বক জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ঐ পদসমূহে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পিউটার টেকনোলজি পাশ করাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করলে দেশ উপকৃত হবে।

মো. আবুল হোসেন খান

সহকারী শিক্ষক,

মরিচবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়,

বরিশাল