সুশান্ত কুমার রায়
লতাজাতীয় উদ্ভিদ। মূলত এর উত্কট গন্ধের কারণে এরকম নামকরণ করা হয়েছে। গুইন্যারী, গন্ধভাদুলে, গাঁদাল, গন্ধভাদালি, গন্ধভাদুরি, ভদ্রালতা, মধুলতা, বনভাদুরি, গন্ধভাদাল, ভাদাল, ভাদালিলতা, গন্ধালি প্রভৃতি স্থানীয় নামে পরিচিত। সংস্কৃতে প্রসারণী আবার কখনো ভদ্রা বা ভদ্রপর্ণী বলা হয়। লতানো এই উদ্ভিদটি বাগানের ঝোপেঝাড়ে ও জঙ্গলে অন্য গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে জন্মে। কাণ্ড থেকে জোড়ায় জোড়ায় পাতা হয়। কচিপাতা নরম ও সবুজ কিন্তু পরিপক্ব হলে পাতা খসখসে হয়। বর্ষাকালে অজস্র লতাপাতায় ভরে যায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ফুল ধরে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফল হয়। শীতকালে ফল পাকে। বীজ, কাণ্ড বা লতার মাধ্যমে নতুন গাছ হয়। তবে শীতের শেষে উদ্ভিদের গোড়ার দিকে নতুন কুঁড়ি গজায় এবং এগুলি কেটে লাগালেই নতুন গাছের জন্ম হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আন্দামান নিকোবর দ্বীপ, ভুটান, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, চীন ও তাইওয়ানে গন্ধভাদালি জন্মে।
আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় গন্ধভাদালির পাতা ব্যবহার হয়। পাতা বেটে চালের গুঁড়া বা ডালের সঙ্গে মিশিয়ে বড়া বানানো যায়। বড়া খুবই সুস্বাদু ও উপকারী। ভর্তা করে গরম ভাতে খেলেও উপকার মেলে। আমাশয়, বাত-ব্যথা, ডায়রিয়া, অর্শ, অজীর্ণ, কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে বিশেষ উপকারী।
