শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগের দিন দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি মোকাম ও ছোট-বড় হাটবাজারে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। দরদাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। মোকামগুলোতে ইলিশের প্রাচুর্য লক্ষ্য করা গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখরিত ছিল ইলিশের মোকামগুলো। মঙ্গলবার নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রচুর ইলিশ যেমন, তেমন অসংখ্য ক্রেতার সমাগম। নগর সংলগ্ন এলাকাসমূহ ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও ইলিশ কিনতে এ মোকামে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
মত্স্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক ইয়ার উদ্দিন জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একের পর এক ইলিশ বোঝাই ট্রলার ভিড়তে শুরু করে পোর্ট রোডের মোকামে। এতে করে প্রতিদিনের চেয়ে একটু কম দামে বিক্রি হয়েছে ইলিশ। বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় হাজার মণ ইলিশ পোর্ট রোডের পাইকারি মোকামে এসেছে বলে তিনি জানান। তবে রাত ৮টার দিকে আরো ট্রলার আসার কথা রয়েছে। সে সব ট্রলারের ইলিশ মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রি হবে এবং বেশি পরিমাণে এলে দাম আরো কমবে বলে তিনি জানান।
এদিন এক কেজি থেকে ১ হাজার ১০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকা। ১ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ১ হাজার ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৩৪ হাজার টাকা। দেড় কেজি ওজনের সবচেয়ে বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৩৯ হাজার টাকা দরে। এছাড়াও এলসি ৬০০ থেকে ৯৫০ গ্রাম প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকায়। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ইলিশ ২০ থেকে ১৮ হাজার ও ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি মণ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মত্স্য অধিদপ্তরের মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি প্রতি বছরের ন্যায় নৌ-বাহিনীর জাহাজ বরিশালে নোঙর করেছে। উল্লেখ্য, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোরব থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। মঙ্গলবার মধ্যরাত হতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।
