কবে খুলবে ওসমানী উদ্যান?

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৩

নাগরিক কোলাহলের শহরে একটু নিশ্বাস নিতে পার্কে ছুটে যান সাধারণ মানুষ। নিজেদের সতেজ করতে সময় কাটান সবুজ পার্কে। অথচ দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের কথা বলে বন্ধ করে রাখা হয়েছে ওসমানী উদ্যান। উন্নয়ন কাজ চলছে এমন সাইনবোর্ড দিয়ে পুরো পার্ক টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। যেখানে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ২০১৮ সালে পার্কটি সংস্কার শুরু করলেও আড়াই বছরের বেশি সময় হলেও এখনো শেষ হয়নি কাজ। কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে এ বিষয়ে জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা অঞ্চল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘ড্রেনেজ সিস্টেমসহ, জাদুঘর, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে। তবে কতভাগ কাজ শেষ হয়েছে সেটি কাগজপত্র দেখা ছাড়া বলতে পারব না। আমাদের পরিকল্পনা আছে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উদ্যানটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির তত্কালীন মেয়র সাঈদ খোকন। নগরবাসীর ‘গোস্সা নিবারণী’ বা ‘রাগ প্রশমনের’ সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যানে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা যোগ করার কথা জানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গোস্সা নিবারণী পার্ক হিসেবেও সে সময় এটিকে আখ্যায়িত করা হয়। প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় ১০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সংস্থাটির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তবে কাজ এখনো শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কাজের যে গতি তাতে এ কাজ কবে শেষ হবে তা বলা মুশকিল। ডিএসসিসির ‘জল সবুজের ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় ওসমানী উদ্যানে ২৯ একর জায়গার ওপর প্রায় ৫৮ কোটি টাকা খরচ করে এ পার্ক নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনায় এ পার্কটিতে মিউজিক সিস্টেম, বসার জন্য আলাদা আলাদা জোন, বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং বড় স্ক্রিনে টেলিভিশন দেখার সুবিধা থাকবে। উদ্যানের লেকটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করা হবে। থাকবে প্যাডেল বোট। পার্কের মধ্যেই থাকবে ফুড কোর্ট এবং ভলিবল ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পার্কে বাজবে হারানো দিনের গান। বিস্তর ওয়াকওয়েতে হেঁটে ক্লান্ত পথিকরা হাতের নাগালে পাবেন বিনামূল্যে রাস্তার পাশে সুপেয় পানি। থাকবে জিম ও ইয়োগা করার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পুরান ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে থাকবে নগর মিউজিয়ামের বিশাল আয়োজন। অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ সিস্টেম ও বিদ্যুতায়নে পুরো পার্কে থাকবে আলোর ঝলকানি।

এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবে ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। এসব পরিকল্পনা নিয়েই কাজ শুরু হয় পার্কটির। পার্কটিতে প্রথমে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলও পরে তা বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। সঙ্গে যুক্ত করা হয় কিছু নতুন পরিকল্পনা। এছাড়া নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এরপর আবারও পানি নিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন যোগ করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১০০ কোটি টাকার ওপর। পার্কটির কাজ করছে ‘দি বিল্ডার্স লিমিটেড’।

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নকারী ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন স্থপতি রফিক আজম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘যে ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন তাদের যোগ্যতা আছে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি। এ কাজটি শুধু ঠিকাদারদের জন্য দেরি হয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে তাদের চিঠি দেওয়ার পরেই গত কিছুদিন তারা আবার কাজ শুরু করেছে।’