লাউয়ের নতুন জাত উদ্ভাবন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯

গাজীপুর প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম বাণিজ্যিক কৃষির বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি বিইউ লাউ-২ নামে একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। উচ্চ ফলনশীল এই জাতটি উন্মুক্ত পরাগায়িত (OP)। জাতটির ফলনের তুলনায় অঙ্গজ বৃদ্ধি খুব কম, যা আধুনিক বা স্মার্ট কৃষির জন্য উপযোগী। তাছাড়াও পুং ও স্ত্রী ফুলের অনুপাত কম হওয়ায় গাছে খাদ্যের যে জোগান দেওয়া হয় তা অত্যন্ত মিতব্যয়িতার সঙ্গে ব্যবহার করে জাতটি অধিক ফলন দেয়।

জাতটির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আগাম জাত হিসেবে জুলাই-আগস্ট মাস থেকেই এর বীজ বপন করা যায়। দেশীয় লাউয়ের মতো এ জাতটি হালকা সবুজ বর্ণের, গিঁটে গিঁটে ফল ধরে, ফলের গড় ওজন ১.৫-২ কেজি। যা বর্তমান সমাজের ছোট পরিবারগুলোর চাহিদার সঙ্গে মানানসই। বিইউ লাউ-২ জাতটি বিদেশি মাতা লাউয়ের সঙ্গে দেশি পিতা লাউয়ের শংকরায়ণ-পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। লাউয়ের জাতটি উদ্ভাবনে ছয়-সাত বছর সময় লেগেছে। জাতটি সম্পর্কে এর উদ্ভাবক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম বলেন, জাতটির অঙ্গজ বৃদ্ধি কম হওয়ায় স্বল্প জায়গায় এমনকি ছাদ বাগানে সহজে চাষ করা সম্ভব। তাছাড়া ফল ছোট আকারের হওয়ায় এক বেলার জন্য লাউ কেটে রান্না করে বাকিটা পরের বেলার জন্য রেখে দেওয়ায় স্বাদ ও পুষ্টিমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। জাতটি দেশের সবজির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।