ভ্যাকসিনের জন্য এখনই পরিকল্পনা জরুরি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:৩০

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন কবে আসবে এ নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা। ভ্যাকসিন এলেই এই মহামারি কেটে যাবে মানুষের মনে এমনই ধারণা। এই ভ্যাকসিন এলেই, যে অবরুদ্ধ সময় চলছে তা থেকে মুক্তি মিলবে এমনটা মনে করলেও আমাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। এই মুহূর্তে করোনার ভ্যাকসিনের ফাইনাল ট্রায়াল চলছে। তা সফল হলে ভ্যাকসিন তৈরি শুরু হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনের গবেষণা চলছে। বাংলাদেশেও গ্লোব করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। এই ভ্যাকসিন যদি সফলও হয় সেই ভ্যাকসিন বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য নিশ্চিত করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। সরকার ইচ্ছা করলেও সবার জন্য এই ভ্যাকসিন একসঙ্গে নিয়ে আসতে পারবে না। কেননা, বিশ্বের ৭৬০ কোটি মানুষের জন্য ভ্যাকসিন তৈরি করতেও কয়েক বছর লেগে যাবে। সেই ভ্যাকসিন সবার নাগালে পৌঁছানোটাও কম সময়সাপেক্ষ বিষয় নয়!

আর সে ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী, কয়টা ডোজ দিতে হবে এসবও এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। আবার যে পরিমাণ ভ্যাকসিন আসবে সেসব প্রয়োগের জন্য কারা অগ্রাধিকার পাবে, কীভাবে সেগুলো সংরক্ষণ করতে হবে, কোন পদ্ধতিতে তা দেওয়া হবে এসব খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা এখনই পরিকল্পনা করা দরকার। আর সেই পরিকল্পনা মতো দক্ষ জনবলও প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় ১ লাখ, ১০ লাখ বা ধরেই নিলাম ১ কোটি ভ্যাকসিন আসবে। সেই ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে? আমার মনে হয়, এই অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকাও তৈরি করে ফেলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতালের সব কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নিরাপত্তা কর্মী, সাংবাদিক যারা করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনার তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আগে থেকে এসব ঠিক করে না রাখলে ভ্যাকসিন যখন আসবে তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। তাতে মহামূল্যবান ভ্যাকসিনের অপচয় ঘটবে।

সবশেষে বলতে চাই, ভ্যাকসিনের জন্য প্রতীক্ষায় সময় নষ্ট না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। কারণ, এই সচেতনতাই করোনাকালে আমাদের পৃথিবীর বুকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিত্সক