সাবিহা খানম একা
১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটিতে বিদ্রুপজনকভাবে ব্যান হলো সেক্স এডুকেশন। বাংলাদেশে সেক্স এডুকেশন কিছু ভুল ধারণার কারণে নিষিদ্ধ। বাবা, মা থেকে শুরু করে বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই এই বিষয়টি নিয়ে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে হেজিটেশন ফিল করে। তাদের ধারণা—বয়স বাড়তে বাড়তে প্রাকৃতিকভাবেই তারা এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হবে। ‘মূলত সেক্স এডুকেশন হলো জেন্ডার ইকুইটেবল (সাম্য) বিহেব করা, সংবেদনশীল, রেসপনসিবল এবং জেন্ডার সাম্য আচরণ করা, রিপ্রডাকটিভ হেলথ (প্রজনন স্বাস্থ্য) রাইট এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারা।’
বাংলাদেশে ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে স্বাস্থ্যশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ ৭ম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো এভাবে রাখা হয়েছে, আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ভ্রান্ত ভাবনা, ঝুঁকি ও নিরাপত্তা—এছাড়া এইডস এবং এইচআইভি নিয়ে আলাদা চ্যাপ্টার রয়েছে।
এটি পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার একমাত্র কারণ হলো শিক্ষার্থীরা যাতে বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে বুঝতে পারে; কিন্তু সমাজে অনেকেই ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে এটি ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী এবং আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। সামাজিক কারণে শিক্ষকদের অনেকেই এই বিষয়গুলো আলোচনা করতে লজ্জাবোধ করেন; কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে সেক্স এডুকেশনের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে চার জন করে নারী ধর্ষিত হচ্ছে। এটি ২০২০ সালের একটি পরিসংখ্যান মাত্র। এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না এই মহামারি থেকে। বাবা, ভাই, স্বামীর কাছে থেকেও এখন সুরক্ষিত নয় নারী। এর কারণ কী? কেন বাড়ছে এই হার? একবার কি ভেবে দেখেছেন এটি মূলত বৃদ্ধিই পাচ্ছে সেক্স এডুকেশনের অভাবে।
শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা একটি জাতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাছাড়া ‘নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সর্বদাই একটু বেশি কাজ করে।’ আর এটি হিউম্যান ন্যাচার। বাংলাদেশের গতানুগতিক বিবাহিত সংস্কৃতি, সেক্স এডুকেশনের অভাব, সমাজের কুসংস্কারগুলো মূলত ধর্ষণের মতো অমানবিক অপরাধের মূল কারণ। আইসিটি (ICT) বেইজড নলেজের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের উচিত সেক্স এডুকেশন মাধ্যমিক স্তর থেকে বাধ্যতামূলক করা। কেননা যেখানে একটি দেশের অর্ধেক নর ভীতসন্ত্রস্ত সেখানে কীভাবে তারা তাদের স্বাধীন মনে করতে পারে! যেখানে নারী স্বাধীনভাবে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে না সেখানে কোনোভাবেই জেন্ডার ইকুইটি বা জেন্ডার এমপাওয়ারমেন্ট সম্ভবপর নয়।
দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মাধ্যমিক স্তর থেকে সেক্স এডুকেশন বাধ্যতামূলক করা হলে ছেলেমেয়েরা বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, পাশাপাশি ধর্ষণ নামের এই মহামারি থেকে দেশকে রক্ষা করা এ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভবপর হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
