নারায়ণগঞ্জে ঝুট সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি শিল্পমালিকরা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:২২

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দেশের নিট সেক্টরের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর ঝুট সন্ত্রাসীরা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিসিকের তিন শতাধিক গার্মেন্টস দাবড়ে বেড়ানো এদের হাতে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন শিল্পমালিকরা। সেখানে অন্তত ১৫টি গ্রুপের কয়েক শ কর্মী এখন সক্রিয়। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে এরা তখন সেই সরকারের ছত্রছায়ায় ঝুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তাদের রয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র। গত কয়েক বছরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসীদের বিশাল অস্ত্র ভান্ডারের সিংহভাগই দখলে রেখেছে এরা।

জানা যায়, এদের ভাগের টাকা রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের পকেটেও নিয়মিত যায়। খোদ নিটমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর এক শীর্ষ নেতা এদের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই বলেছেন, এই নেতার সঙ্গে জামায়াতের গোপন সখ্যতাও আছে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যতা ও তাদের সমর্থন থাকায় ঝুট সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই দিনে দিনে তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।

বর্তমানে এদেরই একজনের দখলে অবৈধ অস্ত্র, বিশাল ইয়াবা ব্যবসা আর বিসিকের ৫০ ভাগ ঝুট ব্যবসা। পুলিশ ও র্যাব সবকিছু জানলেও রহস্যজনক কারণে ঐ ব্যক্তি রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় তাকেসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্টদের বিশাল অত্যাধুনিক অস্ত্র ভান্ডার এখনো অক্ষত রয়েছে। গত কয়েক বছরে র্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ক্রসফায়ারে জেলার আলোচিত দুই ডজন শীর্ষসন্ত্রাসী নিহত হলেও তাদের অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ প্রশাসনের ভাষ্য, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালালেও বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসীদের অস্ত্রগুলো কোথায়? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অবৈধ অস্ত্রের বেশির ভাগই চলে গেছে নারায়ণগঞ্জের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণকারীদের হাতে। এদের বেশির ভাগই এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফতুল্লা এবং মাসদাইর এলাকার বিশাল শিল্পপল্লি। প্রতি মাসে বিসিক এবং মাসদাইর এলাকার প্রায় সাড়ে তিন শ গার্মেন্টসের কোটি কোটি টাকার ঝুট বেচাকেনা করছে এরা।